এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় র‍্যাব ডিজির উপহার

|

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সৈয়দবস্তা গ্রামের আল আমীনকে ফুল, মিষ্টি আর নগদ অর্থ দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন র‍্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ। শনিবার রাত ৮ টার সময় আল আমীনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা খোরশেদ ফকিরের হাতে এসব তুলে দেন বেনজির আহমেদের পক্ষে র‍্যাব ৮ এর মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তাজুল ইসলাম। এ সময় তার সাথে ছিলেন ডিএডি কামরুজ্জামান ও ল্যান্স নায়েক বাসেরসহ আরও অনেকে।

র‍্যাবের সদস্যরা খোরশেদ ফকিরের বাড়ি পৌঁছলে আল আমিনের বাবা খোরশেদ ফকির বলেন, মিষ্টি লইয়া কেউ অহনতরি আহে নাই। পোলাডায় বাইত্তে থাকলে খাওয়াইতে পারতাম। চানাচুর আর ঝালমুড়ি বেইচ্চা ৮ জনের সংসার চালাইতেই হিমশিম খাই। চাইর পাঁচ দিন ধইরা বৃষ্টি বেচা কিনা নাই। কি কইরা পড়া লেখার খরচা চালাইমু। আমার ছেলেডা ওর স্বপ্ন যেন পূরণ করতে পারে আপনারা দোয়া করবেন।

ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব মাদরীপুর কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় আল আমীন। সে জিপিএ -৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়।


উল্লেখ্য, সব বাধা পেরিয়ে দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে আল আমীন পিএসসি’তে ইকরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫, ইমাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি’তে ৪ দশমিক ৮০ এবং একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আল আমীন যমুনা টেলিভিশনকে জানায়, কোনো বাধাই মানুষের ইচ্ছা শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। আমার মেধাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি তৈরি করে পরিবারের অভাব ঘুচাবো আর দরিদ্র পরিবারের মেধাবি বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবো।

র‍্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার কোন একটি গণমাধ্যমে আল আমীনের এই সাফল্যের খবরটি ডিজি স্যার দেখে তার পক্ষে অভিনন্দন জানানোর জন্য নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী আল আমীনের বাড়ি আসি এবং সে বাড়ি না থাকায় শুভেচ্ছা স্বরুপ ফুল, মিষ্টি আর নগদ ১০ হাজার টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেই। তার জন্য র‍্যাবের পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল।









Leave a reply