সব রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে: নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ

|

গত এক মাসে যারা পালিয়ে এসেছে শুধু তাদের নয়, আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরও ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে। নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্কে এ দাবি জানান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের দাবিও তার।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন কড়া ভাষায় নিন্দা জানান, রাখাইনের সহিংসতার। তিনি অভিযোগ করেন, মিয়ানমার সরকার দাবি করলেও, সহিংসতা বন্ধ হয়নি। এখনও প্রতিদিনই মানুষ পালিয়ে আসছে। ভয় দেখাতে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে চলছে হত্যাযজ্ঞ। যেসব রোহিঙ্গা এখনও রয়ে গেছে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের ভেতরেই সেফজোন প্রতিষ্ঠা করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মাসুদ বিন মোমেন অভিযোগ করেন, অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার। অনেক উস্কানির পরও ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে বাংলাদেশ। আমরা শুরু থেকেই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছি। একসাথে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রস্তাবও দিয়েছি। অথচ, মিয়ানমারের নেতারা ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। এটা পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা। পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের উস্কানি অব্যাহত আছে। গেল কয়েকদিনে, ১৯ বার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে তারা।

রাখাইনের ঘটনা তদন্তে নিরাপত্তা পরিষদের কমিটি গঠনেরও আহবান জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধি। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ চান তিনি। বলেন, মুসলিমরাই মুসলিমদের হত্যা করছে, এমন দাবিতেই প্রমাণিত হয় যে, বেসামরিক নাগরিকের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন করা উচিত নিরাপত্তা পরিষদের। নতুন যেসব রোহিঙ্গা এসেছে আর আগে যারা ছিলো, সবাইকে নিরাপদে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। যাচাই-বাছাই’র সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরে উপস্থিতি চাই আমরা।

মিয়ানমার অবশ্য, পুরো বিষয়টিকে তুলে ধরেন সন্ত্রাসবাদের সমস্যা হিসেবে। দাবি করেন, ঘরে ফিরতে পারবে রোহিঙ্গারা। দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইউ থং তুন দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর কোন সহিংসতা হয়নি রাখাইনে। যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যে কোনো সময় তাদের যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত মিয়ানমার। বাংলাদেশের সাথে আমরা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছি। নানা পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের সম্মতি-ই প্রমাণ করে, জাতিগত নিধনের অভিযোগ মিথ্যা।

মিয়ানমারের দূত জানান, সোমবার রাখাইন পরিদর্শনে যাবেন, বিদেশি কূটনীতিকরা। জাতিসংঘ মহাসচিবকেও মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply