কয়লা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে যন্ত্রপাতি নষ্টের পরিকল্পনা!

|

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চোরদের ওজনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং যন্ত্রপাতি নষ্টের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। ফলে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। তারপরও প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা কত দিনে কোথায় গেছে তার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

খনির গভীর থেকে কয়লা কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে চলে যায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সেখানে খনিজ কয়লা জ্বালানি হিসেবে পুড়িয়ে, তিনটি ইউনিটে উৎপাদন হয় ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

খনি থেকে বিদ্যুৎ ইউনিটে যাওয়া কয়লা শতভাগ শুদ্ধ বা পরিশোধিত নয়। সাথে থাকে ভূগর্ভস্থ আবর্জনা। কিন্তু কী পরিমাণ মিশ্রণ কয়লার সাথে থাকতে পারবে, তার বাধ্যবাধকতা নেই। অভিযোগ আছে, এই সুযোগ নিয়ে খনি থেকে অপ্রত্যাশিত আবর্জনা কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ঠেলে দেওয়া হয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বিষয়টি আগেভাগে ধরে ফেলায় বিপুল পরিমাণ পাথর ও আবর্জনা বাছাই করে প্রকল্প এলাকায় জমা রাখা হয়।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কী উদ্দেশ্যে আবর্জনা ও পাথর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছিল তা এখন পরিষ্কার। কিন্তু খনি এলাকা থেকে কত দিনে কোথায় ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে রহস্যের ভেদ হয়নি এখনো।

এদিকে কয়লা লোপাটের ঘটনায় পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি খনির চার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) দায়ী করেছে। তারা হলেন- সদ্য সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক এমডি এসএম নরুল আওরঙ্গজেব, আমিনুজ্জামান ও কামরুজ্জামান। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত থাকার আভাস দেয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। বুধবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে হস্তান্তর করা হয়।









Leave a reply