বাল্যবিবাহ ঠেকাতে আসামে ব্যাপক ধরপাকড়; আটক ২ হাজারের বেশি

|

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে ভারতের আসামে। একদিনে আটক করা হয় ২ হাজারের বেশি মানুষকে। তবে অভিযোগ উঠেছে, কেবল রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুসলমানদের হয়রানি করতেই নেয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছে রাজ্য সরকার। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় তাদের অভিযানের লক্ষ্য নয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর।

দু’দিন আগেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই শুরু হয় বড় ধরনের অভিযান। বাল্যবিবাহের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার বিকেল নাগাদ আটক করা হয় ২০৪৪ জনকে। আসাম পুলিশের মহাপরিচালক জি পি সিং জানান, আট হাজারের বেশি মানুষ আছে অভিযুক্তের তালিকায়। তিনি বলেন, গত দু’দিন ধরে ৪ হাজার ৭৪টি কেস নিবন্ধন করা হয়েছে আসামের বিভিন্ন জেলায়। এখন পর্যন্ত ৫২ জন পুরোহিত ও কাজির বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। কিন্তু অভিযান শুরুর পর অনেকেই পালিয়েছে। সব অভিযুক্তকে আটক করতে সময় লাগবে।

ধুবরি, হোজাই, বরপেতাসহ যেসব এলাকায় ধরপাকড় চলছে সেগুলো মুসলিম অধ্যুষিত। অভিযোগ উঠেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে অভিযানে। আগে থেকেই, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সোচ্চার ছিল আসাম সরকার। যদিও, রাজ্য প্রশাসনের দাবি, জনসচেতনতা তৈরি এই অভিযানের উদ্দেশ্য। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এর টার্গেট নয়।

ভারতে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে অবৈধ। তবে নিয়মিতই লঙ্ঘন হয় এই আইন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ লাখ মেয়েশিশু বাল্যবিবাহের শিকার হয় ভারতে। মেয়ে শিশুদের বিয়ের হারের দিক থেকে শীর্ষস্থানে আছে দেশটি। মা ও শিশু মৃত্যুর হারের আশঙ্কাজনক হারের জন্য বাল্যবিবাহকে দায়ী করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের গর্ভধারণের হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও আসামে এই হার ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ভারতের বাজেটে সন্তুষ্ট আফগানিস্তান, মোদি সরকারকে তালেবানের ধন্যবাদ জ্ঞাপন

/এম ই


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply