গ্যাসের দাম পুনর্বিবেচনার দাবি ব্যবসায়ীদের, চাপের মুখে পোশাক শিল্প

|

আলমগীর হোসেন:

গ্যাসের বর্ধিত দাম দিয়ে শিল্প খাতের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে। বেশি চাপের মুখে পড়বে পোশাক শিল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে, বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক কারখানা। তাই দাম পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি বর্ধিত দাম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে চাপের মুখে পড়েছে দেশের পোশাক শিল্প। কমেছে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ। বৈশ্বিক সংকটে কমছে রফতানি আদেশও। এরমধ্যেই ঘোষণা আসে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির। বিদ্যুৎসহ শিল্পের সব খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে দুই থেকে তিনগুন পর্যন্ত। বর্ধিত দাম কার্যকর হবে ফেব্রুয়ারি শুরুতেই।

বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে উদ্যোগক্তাদের। বর্ধিত দাম দিয়ে অনেক কারখানার পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা। বিসিআই’র সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ইন্ডাস্ট্রিকে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য যেরকম পদক্ষেপ আশা করা হয়েছিল, সেটা দেখা যাচ্ছে না। ইন্ডাস্ট্রিকে কর্মক্ষম রাখাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো বেকারত্ব সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতির সাথে বেকারত্ব যোগ হলে সরকারের জন্য তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, গ্যাসের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হলে আমাদের জন্য তার সাথে খাপ খাওয়ানো সহজ হবে। তাতে আমাদের পক্ষে ব্যয় সংকোচন সম্ভব হবে। তাছাড়া, একত্রে যদি এত বেশি দাম বাড়ানো হয় তবে আমাদের কারও পক্ষেই শিল্পগুলোকে কর্মক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। অভ্যন্তরীণ বাজারেও আমাদের পণ্য বিক্রি হবে না। সেই সাথে, রফতানিতেও আমরা প্রতিযোগিতা করতে পারবো না।

উদ্যোক্তারা বলছেন, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে পোশাক শিল্প। তাতে চাপ বাড়বে ডলারের ওপর। রফতানির অর্জনও কঠিন হবে। তাই শিল্প এবং কর্মসংস্থানের স্বার্থে দাম পুনর্বিবেচনার দাবি উদ্যোক্তাদের। আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে আমরা ধরে রাখতে পারবো কিনা, তা নিয়ে আমার শঙ্কা রয়েছে। এক পর্যায়ে গার্মেন্টসগুলো ভারত এবং চীন থেকে কাঁচামাল কেনা শুরু করবে। কারণ, দামের পার্থক্য দাঁড়াবে ২৫-৩০ সেন্ট করে। ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের পক্ষে রফতানির গতি ধরে রাখাটাও কঠিন হবে।

এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রির সবকিছুরই দাম বেড়ে যাবে। তাতে আমদানি নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। এমনিতেই ডলার সংকট, তার উপর আমদানি নির্ভরশীলতা বাড়লে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে। অনেক ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মনে করি, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ-সব শিল্পের জন্যই এটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দাম পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শিল্প ও বণিক সমিতির শীর্ষ সংসঠন এফবিসিসিআই। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দাম বেশি বাড়ানো হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা ভাবছেন। তারা এ ব্যাপারে কথা বলবেন, আমাদের জানিয়েছেন। আমরাও রিপোর্ট তৈরি করছি যে, কীভাবে ভালো হয়, দাম কমানো কিনা। প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবেন।

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply