রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের দাপট

|

রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ সালে। ৯৬ দশমিক ৭২ বর্গ কি. মি. আয়তনের সিটিতে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। এখন পর্যন্ত চার বার নির্বাচিত মেয়র পেয়েছেন সিল্ক সিটির বাসিন্দারা। চারবারের মধ্যে তিন বার বিএনপি সমর্থিত ও ২০০৮ সালে একবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হন সেখানে। সবশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে এবার প্রথমবাবের মত দলীয় প্রতীকে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ বিএনপি’র বাঘা দুই প্রার্থী। রাজশাহী সিটিতে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী ৫, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫২ জন। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চার ও স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ১ জন। রাজনৈতিক দলের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. হাবিবুর রহমান, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মো. শফিকুল ইসলাম আর হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ মোর্শেদ মূলত গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী, তবে নিবন্ধন না থাকায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই তার।

রাজশাহী সিটি নির্বাচন মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষা যোগ্যতার দিকটি বেশ ভালো ৫ জনই উচ্চ শিক্ষিত, আইন পেশায় আছে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান ও স্বতন্ত্র মো. মুরাদ মোর্শেদ। বাকী তিন জন বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। এদিকে ১৬০ জন কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় দেখা যায়, স্বাক্ষর জ্ঞান ২৯, অক্ষরজ্ঞান ৫ ও স্বশিক্ষিত ১ জন, পঞ্চম ক্লাস পর্যন্ত পড়েছেন ৩ জন, অষ্টম শ্রেণী পার করেছেন ২৯ জন, এস এস সির গন্ডি পেরিয়েছেন ১৮ ও এইচ এস সি পাস করেছেন ৩২ জন। তবে এইচ এস সির উপরে অর্থ্যাৎ উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন ৪০ জন, তথ্য পাওয়া যায়নি ৩ জনের। তবে ৫২ নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত মাত্র ১০ জন, এইচ এস সি পাস করেছেন ১০ ও এস এস সি’র গন্ডি পার করেছেন ৬ জন, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন ১৮ জন, স্বাক্ষর জ্ঞান ও অক্ষর জ্ঞান আছে ৭ জনের, কোন তথ্য নেই ১ জনের।

সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দাপট খুব বেশি, প্রার্থী হয়েছেন ৭৯ জন, ঠিকাদারি পেশায় জড়িত ১৯ জন, কৃষি ও মৎস্য চাষ করেন ২১ জন, শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ১৬ জন, বেসরকারী চাকুরি করেন এমন আছেন ৬ জন, চাকুরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত আছেন ৩ জন, একজন কিছুই করেন না বেকার, সমাজ সেবা করেন ২ জন, কিছুই করেন না কাউন্সিলর ভাতায় দিন চলে এমন আছেন ৩ জন। আইন পেশায় জড়িত ২ জন, ট্রাকের ড্রাইভার ১, হোমিও চিকিৎসক ১, গৃহস্থালী কাজ করেন ৩ জন, গৃহিনী ১ জন, তথ্য নেই এমন প্রার্থী ২ জন। নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের পেশার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গৃহিনী ৩৩ জন, ব্যবসা করেন ১১ জন, কাউন্সিলর ভাতায় চলে ৩ জনের, চাকুরিজীবী ২, ঠিকাদার ১ ও তথ্য নেই ২ জনের।

সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামে উল্লেখ করার মত মামলা রয়েছে। হলফনামায় দেয়া তথ্যে দেখা যায় ৫ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মামলা আছে দুই জনের নামে, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নামে আছে ১২টি মামলা তার মধ্যে স্থগিত ৪টি, এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের নামে আছে ১ টি মামলা। আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের নামে দুটি মামলা থাকলেও তা পরে খারিজ হয়ে যায়। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে মামলা আছে ৫৮ জনের নামে, ১০২ জনের নামে কোন মামলা নেই। সবচেয়ে বেশি ১৬টি মামলা আছে ৫ নং ওয়ার্ডের মো.কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে, ১৪ টি আছে ২৮ নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলামের নামে, ১১ টি মামলা ১৩ ও ৩০ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ও মো. আব্দুস সামাদের নামে। ১০টি মামলা আছে ১২ ও ২৯ নং ওয়ার্ড-মো. ইকবাল হোসেন ও মো. গিয়াস উদ্দীনের নামে, এছাড়া ৭টি করে মামলা ৪ জনের নামে, ৬টি করে আছে ২ জনের, ৪ জনের নামে আছে ৫টি করে মামলা, ৪টি করে মামলা আছে ৫ জনের নামে। ৩টি করে আছে ৬ জনের, ২টি করে মামলা আছে ১৪ জনের নামে ও ১টি করে মামলা ১৭ জনের নামে। নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১টি করে মামলা আছে ৪ জনের নামে, মামলা নেই ৪৮ জনের।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বর্তমান সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাদে বাকী ২৯ জন নির্বাচন করছেন। পিছিয়ে নেই বর্তমান নারী কাউন্সিলররাও নির্বাচন করছেন ১০ জনই, তবে সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোসা. নুরুন্নাহার বেগম এবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একমাত্র নারী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে মো. কামরুজ্জামান ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একক প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ১৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন করে। নারী কাউন্সিলর পদে সবচেয়ে বেশি ৮ জন প্রার্থী লড়ছেন ২ নং ওয়ার্ডে। রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন, এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৩ ও পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। আগামী ৩০ জুলাই নিজেদের নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন এই ভোটাররা।









Leave a reply