মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করতে কী করবেন?

|

যারা ভ্রমণ কিংবা অন্য কোনো কাজে দেশের বাইরে যেতে চান তাদের জন্য পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই জানেন না কীভাবে অনলাইনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করবেন। কিছু বিষয় জানা থাকলে কোনও ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট পেতে পারেন।

বর্তমানে অনলাইনে পাসপোর্ট ফরম জমা দিলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না। পরে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি গিয়ে ছবি তুলে ও আঙুলের ছাপ দিয়ে আসতে হয়।

আসুন জেনে নেই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করতে কী করবেন?

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া

পাসপোর্টের ফি

পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে প্রথম যে ধাপ তা হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া। এটি আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে। কারণ অনলাইনে আবেদনফর্মে ঐ ব্যাংকের রিসিট নম্বর এবং জমার তারিখ সংযুক্ত করতে হবে। পাসপোর্ট অফিস নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় আপনাকে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি আরও ৫টি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবেন। ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক।

রেগুলার ফি ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা (এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট)। ইমারজেন্সি ফি ৬০০০/- টাকা+ ১৫% ভ্যাট = ৬৯০০.০০ টাকা (দশ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট)।

অনলাইনে ফর্ম পূরণ

আপনি পাসপোর্ট করতে হলে আপনাকে আগে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করতে হবে, তাই আপনাকে বাংলাদেশ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম প্রতিটি ঘরে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। আপনার নামের বানান, পিতা-মাতার নামের বানান সব কিছু আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা শিক্ষা সনদের সাথে মিল রেখে দেবেন। স্থায়ী ঠিকানা বর্তমান ঠিকানার ঘর যত্ন সহকারে পূরণ করবেন। আপনার ইমেইল আইডি এবং ফোন নাম্বারের ঘরে ঠিক ভাবে তথ্য দিন।
সবশেষে আপনি যেদিন ছবি তোলা ও হাতের ছাপ দেয়ার জন্য বায়োমেট্রিক টেস্ট দিতে যেতে চান, সুবিধামতো সেইদিনটা নির্বাচন করে সাবমিট করুন।

বিশেষ তথ্য

অনলাইনে একাউন্ট খোলার পরপরই আপনাকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড জানিয়ে দেবে। সেটা সংরক্ষণ করুন। এমআরপি(MRP) আবেদন ফরম পূরণের নিয়মাবলী আবেদনের সঙ্গে যে সমস্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে- চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার প্রদত্ত সনদ/ ভোটার আইডি কার্ড/ জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা বিদ্যুৎ, গ্যাস/ পানির বিল/ বাড়ির দলিলের ফটোকপি ইত্যাদি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে। ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

পাসপোর্ট করার সময় যেসব ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরী।

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের নির্ভরশীল স্ত্রী/স্বামী এবং সরকারি চাকরিজীবীগণের ১৫ (পনের) বছরের কম বয়সের সন্তান, ৫ (পাঁচ)/১০ (দশ) বছরের অতিক্রান্ত, সমর্পণ কৃতদের (সারেন্ডার) জন্য একটি ফরম ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টের জন্য ২ (দুই) কপি পূরণকৃত পাসপোর্ট ফরম দাখিল করতে হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক

অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পিতা ও মাতার একটি করে রঙিন ছবি (৩০ x ২৫ মিঃমিঃ) আঠা দিয়ে লাগানোর পর সত্যায়ন করতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহের (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) সত্যায়িত ফটোকপি। যে সকল ব্যক্তিগণ পাসপোর্টের আবেদনপত্র ও ছবি প্রত্যায়ন ও সত্যায়ন করতে পারবেন– সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, গেজেটেড কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পৌর কাউন্সিলরগণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, নোটারি পাবলিক ও আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের গ্রেডের কর্মকর্তাগণ।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/ এনওসি(NOC) দাখিল করতে হবে।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাভের যোগ্য আবেদনকারীগণকে পূরণকৃত ফরম ও সংযুক্তিসমূহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

শিক্ষাগত বা চাকরিসূত্রে প্রাপ্ত পদবীসমূহ (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টর, পিএইচডি ইত্যাদি) নামের অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে না। ফরমের ক্রমিক নং ৩ পূরণের ক্ষেত্রে, একাধিক অংশ থাকলে প্রতি অংশের মাঝখানে একটি ঘর শূন্য রেখে পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী মৃত হলেও তার/তাদের নামের পূর্বে ‘মৃত/মরহুম/Late’ লেখা যাবে না

জমা দেয়ার আগে

জমা দেয়ার আগে ফরমের প্রিন্ট এবং সত্যায়ন আপনার পূরণকৃত ফর্মের যেই পিডিএফ কপিটা পেয়েছেন, সেটার দুই কপি কালার প্রিন্ট করে ফেলুন। নিজের চার কপি ছবি, ফিলাপ করা অংশ ছাড়াও কিছু জায়গায় আপনার স্বাক্ষর দিতে বলা আছে; সেখানে আপনার স্বাক্ষর দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট ফরম নিয়ে পরিচিত কোনও প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিন।

সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফর্মের সাথে যুক্ত করুন। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটি নিন। আপনার ফরম এখন জমা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

ছবি তোলা এবং অন্যান্য কাজ

ছবি তোলা এবং অন্যান্য কাজে আপনার নির্বাচন করা তারিখে সকাল সকাল পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। সরাসরি আপনার ফরম সাথে নিয়ে উপস্থিত সেনা সদস্যকে জানান আজ আপনার ছবি তোলার দিন নির্ধারিত আছে। তিনি আপনাকে দেখিয়ে দেবেন কোথায় ফরমসহ আপনাকে যেতে হবে। অবশ্যই সাদা পোশাক পরবেন না, ফরমাল পোশাক পরার চেষ্টা করুন।

পুলিশ ভেরিফিকেশান ও পাসপোর্ট রিসিভ ডেট

যদি আপনার স্থায়ী আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয়, তবে দুই জায়গাই পুলিশ ভেরিফিকেশান হয়ে থাকে। ভেরিফিকেশান শেষ হলে আপনার মোবাইলে এসএমএস আসবে। যেদিন এসএমএস আসবে তারপরেই আপনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপনার তথ্য সঠিক আছে কিনা পাসপোর্ট যাচাই করে নিন এবং কোনও তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক পাসপোর্ট সংশোধন করে নিতে পারবেন।

ভুল হয়ে গেলে, পাসপোর্ট(এমআরপি) রি-ইস্যু/ তথ্য পরিবর্তন/ পাসপোর্ট সংশোধন এর নিয়মাবলী ও আবেদন ফরম, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য এই ফরমটি পূরণ করে বর্তমান পাসপোর্টের ফটোকপি ও ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ সংযুক্ত করতে হবে এবং মূল পাসপোর্টটি অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। পাসপোর্ট নবায়ন করতে হলে
নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করে ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রশিদটি ওই আবেদনপত্রের সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগিয়ে পাসপোর্টসহ জমা দিতে হবে।

তথ্য

সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। এই পাসপোর্টের রং সবুজ হয় না, নীল রংয়ের হয় এবং উপরে অফিসিয়াল পাসপোর্ট লেখা থাকে।









Leave a reply