লিভাকোভিচের বীরত্বে ইতিহাস গড়া হলো না জাপানের

|

টাইব্রেকারে গড়িয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া-জাপানের ম্যাচ। কিন্তু, ক্রোয়াট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের বীরত্বে একদম মুহূর্তে শেষ মুহূর্তে এসেও ইতিহাস গড়া হলো না জাপানের। আর, অনেক পরিশ্রম আর কষ্টে পাওয়া জয় নিয়ে আরেকবার ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো ক্রোয়েশিয়া। আর, এ পরাজয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নিলো জাপান।

ম্যাচের ১০ সেকেন্ডের মাথায়ই আক্রমণে যায় জাপান। সেটা ছিল কেবলই শুরু। তবে ৭ মিনিটের মাথায়ই খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়াটরা। ইভান পেরিসিচের ক্রমাগত প্রেসিংয়ে গোলরক্ষক গোনদার কাছে ব্যাকপাস দিতে গিয়ে ভুল করে বসেন তোমিয়াসু। কিন্তু সময় নিয়ে যে শট নেন পেরিসিচ, তা প্রতিহত করেন গোনদা।

ম্যাচের ১২ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে জুনিয়ার বাড়ানো ক্রসে ট্যাপ ইন কওরে জাপানকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ মিস করেন ফরোয়ার্ড মায়দা এবং নাগাতোমো, দুজনই।

ব্রুনো পেতকোভিচের মিস ২৫ মিনিটে মাঝমাঠেরও নিচ থেকে জিভারদিওলের ডিফেন্স চেরা বুদ্ধিদীপ্ত লং বলের দখল নেন ব্রুনো পেতকোভিচ। কিন্তু গোলমুখে শট বা, অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ক্রামারিচকে বল পাস দেয়ার কোনোটাই তিনি করতে পারেননি। এর মিনিট দুয়েক জুড়ে ছিল ক্রোয়েশিয়ার সেরা কয়েকটি আক্রমণ। তবে পেরিসিচ-ক্রামারিচ-পেতকোভিচদের টানা কয়েকটি আক্রমণ দেখেনি আলোর মুখ। ম্যাচের এই সময়টাতেই ক্রোয়েশিয়া ছন্দ খুঁজে পাওয়া শুরু করলে রক্ষণেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ব্লু সামুরাইদের।

ম্যাচের ৪১ মিনিটে গোলপোস্টের বামপ্রান্তে টাচলাইনের কাছে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন কামাচো। কিন্তু তার শট চলে যায় বার ঘেঁষে বাইরে। তবে গোলের জন্য এরপর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি ব্লু সামুরাইদের। দোয়ানের করা শর্ট কর্নার থেকে বল পান মোরিতো। তার শট ক্রোয়াট রক্ষণে বাধা পেয়ে আবার আসে মোরিতোর কাছে। দূরের প্রান্তে বাঁকানো ক্রস বাড়ান মোরিতো। সেখানে ইয়োশিদার বল চলে আসে গোলপোস্টের সামনে দাঁড়ানো মায়দার কাছে। সেখান থেকে ক্রোয়াট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভচকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি মায়দা।

দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের দারুণ হেডারে ম্যাচে ফিরে আসে ক্রোয়েশিয়া। জাপানের গোলমুখে একের পর একে আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ক্রোয়াট সেন্টার ব্যাক ডেজান লভরেন ডি বক্সে ক্রস করেন। পেরিসিচের জোরালো হেডারে বামপাশে লাফিয়েও জাপানকে সে যাত্রা বাঁচাতে পারেননি গোনদা।

এই গোলের পর ছন্দ ধরে রেখে জাপান রক্ষণে আক্রমণ চালিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। মদ্রিচ-ব্রোজোভিচদের প্রেসিংয়ে বল দখল এবং পেরিসিচের আগুনে শটে ম্যাচের ৬৭ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়াটরা। তবে সময়মতো বলে পায়ের স্পর্শ লাগিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে গোল বঞ্চিত করেন তোমিয়াসু। দুই দলই বেশ কিছু বদলি খেলোয়াড় নামিয়েও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় নিরঙ্কুশ সাফল্য পায়নি। বল দখল ও আক্রমণে দুই দল অনেকটাই ছিল সমতায়।

নকআউট রাউন্ডের এ ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু, অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও বল জালে জড়াতে পারেনি কোনো দলই। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আর, এই টাইব্রেকারেই রচিত হয় ইতিহাস।

টাইব্রেকারের প্রথম শটটি নেন জাপানের তাকুমি মিনামিনো। কিন্তু, ডানপাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার সে শট ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। এরপর ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে নেয়া প্রথম শট থেকে গোল দেন নিকোলা ভ্লাসিচ। জাপানের হয়ে দ্বিতীয় শট নিতে আসেন কাউরু নিতোমা। কিন্তু, জাপানিদের অবাক করে দিয়ে নিতোমার শটও ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ। ক্রোয়াটদের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি দেন মার্সেলো ব্রোজোভিচ। প্রায় ভেঙে পড়া জাপানিদের মনে সাহস যোগাতে শট নেন তাকুমা আসানো। টাইব্রেকারে জাপানিদের প্রথম গোলটি আসে তার পা থেকেই। এ সময় ম্যাচ জমে ওঠে ক্রোয়াট সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড মার্কো লিভাজার নেয়া শট সাইডবারে লাগলে। জাপানিদের হয়ে ৩য় শটটি নেন মায়া ইয়োশিদা কিন্তু তাকেও গোল বঞ্চিত রাখেন লিভাকোভিচ। এরপর, মারিও পাসিলিচ গোল দিলে জয় নিশ্চিত করেন ক্রোয়াটদের।

এরমাধ্যমে, ৫ম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত করলো ক্রোয়েশিয়া।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply