ওয়াল্ট ডিজনির জন্মদিন আজ

|

ওয়াল্টার ইলিয়াস ডিজনি (১৯০১-১৯৬৬)

আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে তুলতে কালজয়ী সব চরিত্র আর রূপকথার জগৎ উপহার দিয়ে গেছেন অ্যানিমেশন চলচিত্রের এ অগ্রদূত। কিন্তু, এর জন্য স্বভাবে নাছোড়বান্দা এ উদ্যোক্তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্গম এক পথ। প্রতারিত হয়েছেন অনেকবার। মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠোর বাস্তবতার। আর, এ বাস্তবতাই ইতিহাসের পাতায় দিয়েছে তাকে কিংবদন্তীর আসন। বলছি, ওয়াল্ট ডিজনির কথা। বিশ্বখ্যাত এ অ্যানিমেটরের ১২১তম জন্মদিন আজ।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ইলিয়াস ডিজনি আর ফ্লোরা ডিজনির টানাপোড়েনের সংসারে ১৯০১ সালের ৫ ডিসেম্বর জন্ম নেন তাদের চতুর্থ সন্তান। যার নাম রাখা হলো- ওয়াল্টার ইলিয়াস। এরপর, তাদের পুরো পরিবার পাড়ি জমায় মার্সেলাইন নামের এক ছোটখাটো মিডওয়েস্টার্ন শহরে। সেখানেই কার্টুন আঁকার হাতেখড়ি হয় ওয়াল্টের।

পরিবারে অভাবের কারণে মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই তিনি শুরু করেন পত্রিকা বিক্রির কাজ। স্কুলে ভর্তি হলেও বেশিদূর এগোতে পারেননি। বড় ভাই রয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গেলে তাকে সঙ্গ দিতে ওয়াল্ট যোগ দেন রেডক্রসে। তবে ১৯১৯ সালে যুদ্ধ থেকে ফেরার পর শুরু করেন ছবি আঁকার যুদ্ধ।

এ সময় তিনি ‘কমার্সিয়াল আর্টসে’ নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন শিক্ষানবিস হিসেবে। ১৯২২ সালে চাকরি ছেড়ে একটি অব্যবহৃত ক্যামেরা নিয়ে নিজেই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। সাথে ছিলেন অন্যতম বন্ধু ইউব ওয়ার্কাস। কিন্তু গ্রাহকের অভাবে মাত্র এক মাস স্থায়ী হয় তাদের প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর, ওয়াল্ট পাড়ি জমান লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে হলিউডের বিখ্যাত ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও’তে ভাগ্যক্রমে একটি কাজও পান তিনি। হলিউডেই একটি রুম ভাড়া করে তার ভাই রয়, কিছু অ্যানিমেটর এবং একটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে ১৯২৪ সালে তৈরি করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য লাইভ অ্যাকশন ফিল্ম ‘অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড’। তবু যেনো কাজ হচ্ছিলো না। এ সময় একদিন একটি ইঁদুরের অ্যানিমেটেড চরিত্র নিয়ে হাজির হন বন্ধু ইউব ওয়ার্কাস। আইডিয়াটি মনে ধরে যায় ডিজনির। তৈরি হয় প্রথম সবাক সিনেমা ‘স্টিমবোট উইলি’।

এ সিনেমা দিয়েই ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পায় মিকি মাউস চরিত্রটি। এবার ‘মিকি মাউস’কে নিয়ে ‘সিলি সিম্ফনি’ নামে সিরিজ নির্মাণের কথা ভাবছিলেন তিনি। এ সিরিজের ১ম মুভি ‘স্কেলিটন ড্যান্স’ মুক্তি পায় ১৯২৯ সালে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী ১০ বছরে এ সিরিজের ৭০টি সিনেমা নির্মাণ করা হয়।

ওয়াল্ট ডিজনি একাই ৫৭৬টি কার্টুন-চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন, পরিচালনা করেছেন ১১১টি। নিজে অভিনয় করেছেন ৯টিতে, অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ৫৯বার আর অস্কার পেয়েছেন ২২বার। এছাড়াও, ৪১টি বিভিন্ন নামীদামী পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। কার্টুন জগতের এ কালজয়ী কারিগর ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৯৬৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু, তিনি বেঁচে আছেন ও থাকবেন কোটি শিশু-কিশোরের হৃদয়ে।

/এসএইচ
   





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply