শীতে মেক্সিকোতে দেখা মিলছে বিরল অতিথি রাজ প্রজাপতির

|

বছর ঘুরে মেক্সিকোতে আবারও দেখা মিলছে লাখ লাখ মোনার্ক বা রাজ-প্রজাপতির। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বাসিন্দা এই প্রজাপতিগুলো শীত এলেই কয়েক হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে পাড়ি জমায় মেক্সিকোতে। রঙিন প্রজাপতিগুলো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি দেবদারু বনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। প্রকৃতির এ রূপ উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শীতের অতিথি হয়ে মেক্সিকোতে তাদের আগমন। প্রকৃতিতে ঠান্ডা নেমে এলেই দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি দেবদারু বনে ঝাঁকে ঝাঁকে বাসা বাঁধে এই বিরল প্রজাতির মোনার্ক প্রজাপতি।

শীতকালীন এই অতিথি অন্তত ৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে মেক্সিকোতে পাড়ি জমায়। যেখানে পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে দু’ মাস। আর কোনো কীটপতঙ্গ এতো দূরের পথ চলতে পারে না।

আকৃতিতে কিছুটা বড় হওয়ায় কমলা-কালো রংয়ের বিরল এ প্রজাপতির নাম মোনার্ক। স্থানীয় অনেকের বিশ্বাস তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মা মোনার্ক হয়ে ফিরে আসে। আর দেবদারুর ডালে ডালে হাজার হাজার প্রজাপতির বিচরণ দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।

এক দর্শনার্থী বলিজবেথ ক্যারাতো গার্সিয়া বলেন, এই সৌন্দর্যকে সংজ্ঞায়িত করার ভাষা আমার জানা নেই। এমন দৃশ্য এখানে উপভোগ করেছি যা আমার জীবনে আগে কখনও দেখিনি কিংবা কল্পনাও করিনি। এর আগে ডকুমেন্টরিতে তাদের দেখেছি কিন্তু বাস্তব অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে রাজকীয় এ প্রজাপতির সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেলো এক দেশকে এই সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে।

যদিও গেলো বছর মেক্সিকোর দেবদারু বনে এই প্রজাপতির উপস্থিতি আশা জাগিয়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় সে বছর তিনগুণ মোনার্কের আগমন ঘটে মেক্সিকোতে। বন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ বছর আরও বাড়বে মোনার্কের সংখ্যা।

প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অভয়ারণ্যে অবস্থান করে মোনার্ক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়াও মেক্সিকোতেই স্বাভাবিক মৃত্যু হয় বেশিরভাগ প্রজাপতির। কেননা মোনার্ক জাতের এ প্রজাপতির আয়ু মাত্র ছয় থেকে আট মাস।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply