বরিশালে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি প্রার্থীর সম্পদ বেশি

|

বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের ২৫ জুলাই। প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। আগামী ৩০ জুলাই ৫৮ বর্গ কি. মি. আয়তনের এ সিটিতে চতুর্থ বারের মতো ভোট। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির আহসান হাবিব কামাল। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বদলে বরিশাল সিটির প্রথম মেয়র মজিবর রহমান সরওয়ারকে আবারো দলের কান্ডারি হিসেবে বাছাই করেছে বিএনপি।

দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হওয়ায় বরিশাল সিটি নির্বাচনে আলাদা করে নজর থাকবে মানুষের। গুঞ্জন শুরু হয়েছে মেয়র প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য নিয়েও। ৬ জন প্রার্থীর সম্পদে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।

হলফনামায় দেয়া তথ্যানুযায়ী বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এছাড়া তার আয় রয়েছে গৃহ সম্পত্তি ও কৃষি থেকে, এসব খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৯৫ লাখ টাকা। ৩টি গাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আছে ৫০ তোলা স্বর্ণ। আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মূল্য দেখিয়েছেন ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্দুকসহ অন্যান্য সম্পদ আছে ২ লাখ টাকার। এছাড়া ব্যবসার মূলধন ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। আছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকার কৃষি জমি ও ৩ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার বাড়ি। কোনো দায় দেনা নেই বিএনপি প্রার্থীর। নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ, যার সব টাকাই নিজের।

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের ভাতা ছাড়াও তার আয় দেখিয়েছেন বাড়ি ভাড়া ও কৃষি থেকে। এসব খাত থেকে বছরে তিনি আয় করেন ৮ লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকা। নগদ টাকা আছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ও সঞ্চয়পত্রে ২ লাখ টাকা। বাসার আসবাবপত্রের পাশাপাশি আছে রিকন্ডিশন একটি মাইক্রোবাস। বড় সম্পদের মধ্যে পূর্বাচলে রাজউকের প্লট ও নিকেতনে প্লটের তথ্য দিয়েছেন হলফনামায়। নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৪৭ হাজার, এর মধ্যে নিজের আছে ৪ লাখ টাকা, পিতা ও ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছেন ১১ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনও পিছিয়ে নেই সম্পদে, পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। বছরে তার আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী পান ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৯ টাকা। সঞ্চয়ী আমানতের সুদ ৩ হাজার ৭৭৬ টাকা। নগদ টাকা আছে ৯৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৬ টাকা। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৮ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ৪৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকার। ১টি গাড়ি আছে যার মূল্য দেখিয়েছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা। ৬০ তোলা স্বর্ণের পাশাপাশি আসবাব পত্রের মূল্য দেখিয়েছেন ৫১,৫৬৫ টাকা। তিনি গাড়ি কেনা বাবদ ঋণ দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা ও গৃহ ঋণ ২০ লাখ ১৭ হাজার ৩৩৩ টাকা।

স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে যৌথ মালিকানায় ২.২৭৫ একর ও শেয়ারে ০.৪৪২৪ একর। ০.০৫০৪ একর জমিতে ৫ তলা ভবন আছে তার। এছাড়া, ০.০০৯৮ একর জমিতে ৫ তলা ভবনের অংশ বিশেষের মালিক তিনি। নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ টাকা, যার সব টাকাই নিজের।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহাবুব পেশায় শিক্ষক। সেখান থেকে তার বাৎসরিক আয় ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। তার ১টি মোটর সাইকেল আছে। ৮ তোলা স্বর্ণ আছে স্ত্রীর নামে। এছাড়া, ২টি ফ্রিজ, ১টি বন্দুক ও বাসার আসবাবপত্রের হিসেব দিয়েছেন তিনি। তবে কোনো দায় দেনা নেই তার। অকৃষি জমি আছে ৬ শতাংশ। আছে, একটি টিনশেড বাড়ি। নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে নিজের আছে ১ লাখ ও দান হিসেবে পেয়েছেন ৪ লাখ।

সিপিবি’র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন আইনজীবী। বছরে তার আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ আছে ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণ, টিভি ফ্রিজসহ বাসার আসবাবপত্র। তারও কোনো দায় দেনা নেই। নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। নিজের ৭৫ হাজার, বাকিটা আত্মীয় স্বজন ও দল থেকে পেয়েছেন।

বরিশাল সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী বাসদের মনীষা চক্রবর্ত্তী। পেশায় একজন চিকিৎসক তিনি। তার নগদ অর্থ আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নিজের ও পরিবারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা। স্বর্ণ ৫ ভরি, কোনো দায় দেনা নেই তারও। নির্বাচনে ব্যয় দেখিয়েছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে নিজের ও পারিবারের ১ লাখ, আত্মীয়দের কাছ থেকে ১ লাখ ও গণচাঁদা এসেছে ৪৫ হাজার টাকা।

বরিশাল সিটি নির্বাচন মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন ৮ জন। প্রত্যাহার ও বাতিলের পর আছেন এই ৬ প্রার্থী। কাউন্সিলর পদে চূড়ান্ত প্রার্থী ৯৪ জন। এছাড়া, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এখন লড়বেন ৩৫ প্রার্থী। ১২৩ টি কেন্দ্রে ৭৫০টি কক্ষে হবে ভোট। পাশাপাশি অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫২টি। ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও মহিলা ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। ৩০ জুলাই নতুন মেয়র বাছাইয়ে ভোট দেবেন ভোটাররা।

যমুনা অনলাইন: এআর/টিএফ









Leave a reply