৬ মাসে সিরাজগঞ্জে ৪২ জন এইডস রোগী শনাক্ত

|

সিনিয়র করেসপনডেন্ট, সিরাজগঞ্জ:

গত ৬ মাসে সিরাজগঞ্জে ৪২ জন ৪২ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এইডসের ঝুঁকিতে আতঙ্কিত সিরাজগঞ্জের মানুষ। উদ্বেগজনক হারে জেলায় বাড়ছে এইচআইভি পজিটিভ রোগী। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর ৫৫ জন পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। এরমধ্যে গত ৬ মাসে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এইচ আইভি পরীক্ষায় ৪২ জন পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১৩ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের এইচ টি সি /এ আরটি সেন্টারের কাউন্সিলর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্টিটর মাসুদ রানা বলেন, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ থেকে সিরাজগঞ্জে এইচ আই ভি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬৭ জন পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পজিটিভ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পজিটিভ রোগীর বেশিরভাগই ইনজেকটিভ ড্রাগ অ্যাডিকটেড। এরা ড্রাগ গ্রহণের সময় সূচ এবং সিরিঞ্জ শেয়ার করে এ জন্যই পজিটিভের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সচেতনতা এবং বেশীরভাগ মানুষকে যদি এইচ আই ভি পরীক্ষার আওতায় না আনা যায় তাহলে সিরাজগঞ্জে এইডস মহামারি আকার ধারণ করবে। এখানে পরীক্ষার সংখ্যা খুবই কম। এরমধ্যে যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের ৫০ ভাগই পজিটিভ হচ্ছে। এদের মধ্যে নেশাগ্রস্ত, যৌনকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং সাধারণ মানুষ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের এই কাউন্সিলর বলেন, যারা আক্রান্ত তাদের মোটিভেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী করা হচ্ছে। যেহেতু এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন বের হয়নি তাই তাদের সাধারণ ওষুধ এবং বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজে এ আরটি সেন্টারে পাঠাচ্ছি। সেখানে তাদের এন্টিরেক প্রো ভাইরাল থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরে এইচ আইভি ভাইরাস থাকলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যেহেতু এইডস একবার হলে আর সারে না তাই তাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এন্টিরেক প্রো ভাইরাল থেরাপি দিতে হবে। একসময় সিরাজগঞ্জে কোনো মাঠকর্মী ছিলো না তাই এইচ আইভি পরীক্ষা তেমনভাবে হয়নি। এখন মাঠকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে ফলে তারা মানুষকে কাউন্সিলিং করে পরীক্ষার আওতায় আনছে। এ জন্যই এত রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

মাসুদ রানা বলেন, সকল ধরনের মানুষকে এই পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যাতে সকলেই এই পরীক্ষার আওতায় আসে। গর্ভবতী মা, রক্ত প্রদানকারী, ইনজেকটিভ অ্যাডিকটেড, যৌনকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে এই পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু আব্দুল্লা জাহিদ বলেন, এ জেলায় মূলত ইনজেকটিভ ড্রাগ অ্যাডিকটিভদের মাধ্যমে এইচআইভি বেশি ছড়াচ্ছে। সবাই বেশ আতঙ্কিত। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবার ধারণা, প্যাথিডিনের মাধ্যমে এই ড্রাগ গ্রহণ চলছে।

এইচ আইভি প্রতিরোধ বিষয়ে সিরাজগঞ্জে কর্মরত লাইট হাউজ নামে একটি এনজিও’র সাব ডি আইসি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলায় একমাত্র তারাই এইচ আইভি প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করেন। তারা মূলত ৩য় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেন। এছাড়া মেল সেক্স ওয়ার্কারদের মধ্যেও তারা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেন। তিনি বলেন দুই বছর ধরে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ইনজেকটিভ ড্রাগ অ্যাডিকটিভ এবং যৌনকর্মীদের মধ্যে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এইডস প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা এবং সকলকে টেস্টের আওতায় আনা হলে সমাজ ঝুঁকিমুক্ত হবে। যদি লাইট হাউজের পর্যাপ্ত বাজেট থাকে তাহলে আমরা সব ধরনের মানুষের মধ্যে কাজ করতে পারবো। জেলায় নতুন করে মাঠকর্মী নিয়োগ করার কারণেই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply