দেখা হবে বন্ধু

|

পল উইলিয়াম ওয়াকার (১৯৭৩-২০১৩)।

এখনও কেউ মেনে নিতে পারেনি তার চলে যাওয়া। তাকে ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। তিনি হলিউড তারকা পল ওয়াকার। সুদর্শন অভিনেতা হিসেবে চাইলেই তিনি চেহারার মাধুর্য দিয়েই হলিউডের উজ্জ্বল তারকা হয়ে থাকতে পারতেন। তবে সে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তিনি মেতে থাকতেন শুধুই অভিনয় আর কার রেসিং নিয়ে। আর এ গতিই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো তার। আজ অকাল প্রয়াত এ তারকার নবম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৭৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, ফ্যাশন মডেল এবং অভিনেত্রী শেরিল ওয়াকারের গর্ভে জন্ম ওয়াকারের। মায়ের জনপ্রিয়তার সুবাদে মাত্র দু’বছর বয়সেই বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পা রাখেন শোবিজ দুনিয়ায়। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। শৈশব থেকেই মায়ের মতো সুদর্শন আর আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ফলে ১৩ বছর বয়সেই সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। ১৯৮৫ সালের ‘মনস্টার ইন ইউর ক্লজেট’ সিনেমা দিয়ে সেলুলয়েড জগতে বিচরণ শুরু পলের।

তবে জনপ্রিয়তা পেতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল তার। এ সময় বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকেও তাকে দেখা যায় অতিথি শিল্পী হিসেবে। সেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রেও কাজ করেন পল। ১৯৯৯ সালের ‘ভার্সিটি ব্লু’ ও ‘শি ইজ অল দ্যাট’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন পল।

সেটা ছিল মাত্র শুরু। ২০০১ সালে ‘দ্য ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারী করেন পল। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে হয়ে ওঠেন দারুণ জনপ্রিয়।। এ সিরিজের প্রথম সিনেমাটিই আয় করে ২০০ মিলিয়ন ডলার। সেই সুবাদে সিরিজের নতুন সিনেমায় দু’বছর পর আবারও হাজির হন তিনি; তবে এবার একেবারে মূল চরিত্রে। পলের দুর্দান্ত পারফর্মেন্স আগের পর্বের তারকা অভিনেতা ভিন ডিজেলকে ছাড়াই সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তুলতে সক্ষম হয়।

তারপর থেকে পল অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করা শুরু করেন। যদিও ২০০৬ সালে ‘ফ্ল্যাগস অব আওয়ার ফাদার’ সিনেমায় অভিনেতা হিসেবে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে দেন। তবে তার ‘রোল অফ লাইফটাইম’ ছিল সেই ব্রায়ান ও’কনর। ২০০৯ সালে সিরিজের চতুর্থ সিনেমা ‘দ্য ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ এর মাধ্যমে এই মানিকজোড়কে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে স্টুডিও। কারণ ওয়াকার আর ডিজেলের কেমিস্ট্রিই ছিল এ সিরিজের প্রাণ।

২০১১ সালে সিরিজের পঞ্চম সিনেমা ‘ফাস্ট ফাইভ’ এ যোগ দেন ডোয়াইন জনসন। যা আয় করে ৬২৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালে ষষ্ঠ সিনেমা ‘ফিউরিয়াস সিক্স’ এর বক্স অফিস সাফল্যের পর শুরু হয় সপ্তম কিস্তির কাজ। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! সেই সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পল। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১০০ মাইল গতিতে থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে তার গাড়ির।

সিনেমা ছাড়াও বাস্তব জীবনে কার রেসিংয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল পল ওয়াকারের। দারুণ গাড়ি চালাতে পারতেন বলে শুটিংয়ে নিজের স্টান্টগুলো নিজেই করতেন। কিন্তু তার এই শখের ব্যাপারটিই হয়ে দাঁড়াল তার অকালমৃত্যুর কারণ। পরিবার-পরিজন এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply