খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তোড়জোর

|

রিমন রহমান:

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে শুরু হয়েছে তোড়জোর। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) আবেদন করেছে একাধিক বিতরণকারী সংস্থা।

যদিও বলা হচ্ছে, এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে ব্যাহত হবে শিল্প উৎপাদন। মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উৎপাদনেও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।

এদিকে, তৈরি পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে মোট যে জ্বালানি প্রয়োজন, তার মধ্যে বিদ্যুতের অবদান ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ। এই খাতে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে সামনে এসেছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব। ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ববাজারে কমছে গার্মেন্টস পণ্যের চাহিদা। ফলে এই খাতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানামুখী সংকট।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যখন আমাদের রফতানি হ্রাস পাচ্ছে তখন যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়, আমরা এই ভার সহ্য করতে পারবো না। যদিও সরকার বলেছে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াবে না। কিন্তু আমরা কী দেখলাম, পরের দিন থেকে সবাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) থেকে বিদ্যুৎ কিনে তা সারাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ করে ছয়টি বিতরনকারী প্রতিষ্ঠান। পাইকারি পর্যায়ে এরইমধ্যে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। খুচরা পর্যায়ে সেই দাম সমন্বয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোর। বলা হচ্ছে, এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়লে উসকে যাবে মূল্যস্ফীতি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু মূল্যস্ফীতির চাপও আছে, এটার ফলে পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষ যারা আছেন, তাদের জন্য যেসব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে, তাতে যেন আমরা তাদের স্বস্তি দিতে পারি। আর কৃষির ক্ষেত্রে আমি বলবো, আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা যেন অব্যাহত না হয়।

ঋণ দেবার ক্ষেত্রে বিদ্যুতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার শর্ত দেয় ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ। সেই পথেই হাঁটছে সরকার। ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বললেন, আমি রাতে ১০টার সময় বাতি নেভাতাম, এখন ৯টার সময় নিভিয়ে দিলাম। তাতে এমন কোনো ভয়ংকর ক্ষতি হবে না। অথবা এই সময়ে এসি বা ফ্যান চালানোর কথা না। অনেক লোক আরও বেশি ঠান্ডার জন্য এসি, ফ্যান চালায়; এগুলো বাদ দিলে দেশ বা তারও কোনো ক্ষতি হবে না।

সবশেষ ২০২০ সালে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে সরকার।

/এমএন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply