এবারের বিশ্বকাপে মেসি-ম্যাজিকের সঙ্গী যে বিশেষ ‘গোল্ডেন বুট’

|

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে ও করিয়ে আবারও তিনি জানান দিলেন, ‘আমি আছি’। আর্জেন্টিনার অনুপ্রেরণা সেই মেসির পারফরমেন্স আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, হ্যাঁ, তিনি আছেন।  এর আগে সৌদি আরবের সাথে আর্জেন্টিনা হেরে গেলেও মেসির ম্যাজিক ছিল সেখানেও। পেনাল্টি শট থেকে শুরু করে ৩টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোল ছাড়া আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। সেটি হলো, তার পায়ের একজোড়া জুতো। খবর এনডিটিভির।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ঝিমিয়ে পড়া ভক্তদের আবারও চাঙ্গা করেছেন মেসি। যে পায়ের গতি সৌদি আরবের সাথে হারের গ্লানিকে ছুঁড়ে ফেলে এনে দিয়েছে প্রত্যাশার আলো, সেই পায়ে এবার দেখা গেছে স্বর্ণের ঝিলিক। স্বর্ণালি রঙের এই বুটগুলো বানানো হয়েছে শুধুমাত্র মেসির জন্য, অর্থাৎ এটি বিশেষভাবে মেসির জন্য কাস্টমাইজড জুতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় এরই মধ্যে তীরের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে মেসির এই জুতো জোড়ার ছবি।

এই বুটের রয়েছে বেশ কিছু বিশেষত্ব। বুটটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘অ্যাডিডাস এক্স মেসি ২০২২ ওয়ার্ল্ড কাপ স্পিডপোর্টাল বুটস’। এর ডান পায়ের বুটে লেখা রয়েছে ‘থিয়াগো ০২ ১১ ১২ এবং মাতেয়ো ১১ ০৯ ১৫’। অর্থাৎ, তার দুই ছেলের জন্মতারিখ ফুটে উঠেছে বুটে। মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর জন্ম ২০১২ সালের ২ নভেম্বর। মেজো ছেলে মাতেয়োর জন্ম ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর।

বিশেষত্ব রয়েছে বাম পায়ের বুটেও। এই বুটে লেখা রয়েছে ছোট ছেলে সিরোর জন্মতারিখ ১০ মার্চ ২০১৮। সেই সাথে আছে স্ত্রী আন্তোনেল্লার নামের সংক্ষিপ্ত ‘আন্তো’। অর্থাৎ বুটে গোটা পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে মাঠে নেমেছেন মেসি। আর সেই জোরেই গত ম্যাচের পর সমস্ত সমালোচনা ও কটাক্ষের সামনে চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে পেরেছেন।

বুট জোড়ার বিশেষত্ব এখানেই শেষ নয়। মেসির দুটি বুটেই লেখা রয়েছে তার জার্সি নম্বর ১০। রয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নীল-সাদা স্ট্রাইপ। প্রস্তুতকারী সংস্থার লোগো ছাড়াও রয়েছে মেসির নিজস্ব ব্র্যান্ডের লোগো।

এছাড়াও প্রযুক্তিগত বিশেষত্বও লক্ষ্যণীয় মেসির এই বিশেষ বুটে। সম্পূর্ণ সোনালি রঙের জুতোয় ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। রয়েছে বিশেষ ধরনের স্টাড, যা মেসিকে দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর সময় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। অর্থাৎ দ্রুতগতিতে দৌড়ালেও ঘাস বা মাটির সাথে জুতো আটকে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া বল নিয়ন্ত্রণে হঠাৎ এক পাশ থেকে অন্য পাশে ঘুরতে গেলেও শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে বিশেষ সাহায্য করবে এই বুটের স্টাডগুলো। বলের সাথে জুতোর সংস্পর্শ মশৃণ হওয়ায় শট নিতেও সুবিধা হবে। ফলে বলকে পুরোপুরি আয়ত্তে আনতে এই অ্যাডিডাস এক্স মেসি ২০২২ ওয়ার্ল্ড কাপ স্পিডপোর্টাল বুটসের ভূমিকা অনেকখানি।

বিশেষ এই বুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডিডাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও। সেখানে লেখা হয়েছে, আর্জেন্টিনার ‘পারফেক্ট ১০’ তার চূড়ান্ত জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন, সে উপলক্ষে এই বিশেষ এক্স স্পিডপোর্টাল বুটগুলো লিওনেল মেসির এই উজ্জল উত্তরাধিকারকে উদযাপন করবে। ২০০৬ সালে বড় মঞ্চে আত্মপ্রকাশের সময় তিনি তার বুটে যা লিখেছিলেন, সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অ্যাডিডাস প্রাইমেকটিন স্বর্ণালি রঙে তার বুটগুলোকে আবারও সজ্জিত করেছে।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply