পরীক্ষা দিয়ে এসে সাইফা দেখলো ঘর নেই, আছে ঘরের স্মৃতি

|

পরিচিত ঘর, পরিচিত আঙিনার অপরিচিত রূপ দেখে কী চলছিল এই শিশুর মনে?

সাইফাদের ঘর ভেঙে দিয়েছে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ৷ দিতেই পারে; কারণ, সেই জায়গায় নাম মাত্র ভাড়ায় খুপড়ির মতো জীর্ণ ফ্ল্যাটগুলোতে থাকতো আড়াই শতাধিক পরিবার। তাদের অনেক আগেই সরে যাওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তাই উচ্ছেদ নিয়ে আইনগত দিক থেকে বলার কিছু নেই। কিন্তু সাইফাদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে এখন। ওর মতো শিশু প্রতি ঘরেই ছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া বাসার সামনে ঘোরাঘুরি করছিল সাইফা। পাশের শিশুটিও বাবা-মার সাথে থাকতো একই কলোনিতে। ওরও বার্ষিক পরীক্ষা চলছে।

পরীক্ষা দিয়ে এসে আর নিজের বাসায় ঢুকতে পারেনি সাইফা। তাকিয়ে আছে ঘরের ধ্বংসস্তুপের দিকে।
সাইফার বন্ধু। বার্ষিক পরীক্ষার মাঝে ঘরছাড়া হয়েছে এই শিশুটিও।
ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে ভেঙে যাওয়া ইট-পাথরের রূপান্তরিত ভালোবাসা।
ঘরে ফিরেই স্কুলব্যাগ রাখার নির্দিষ্ট স্থানটি হুট করেই খুঁজে পাচ্ছে না সাইফা!
বইপত্র আর খেলনাগুলো সব গেল কোথায়?
পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে সাইফা। তবে বাকি পরীক্ষাগুলো দেয়া নিয়ে হয়তো আর নাও ভাবতে হতে পারে তাকে।
বিস্ময়, অনিশ্চয়তা, প্রশ্ন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে সাইফা ও তার বন্ধুর কাছে।
আঙিনাজুড়ে ছড়িয়ে কংক্রিটের ফুল; বড়বড় মানুষের ভাষা না বোঝা যেন শিশুদের ভুল!

ছবি: মাজুল হাসান

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply