রিচার্লিসন ম্যাজিকে শুরু হলো ব্রাজিলের হেক্সা মিশন

|

রিচার্লিসনের ম্যাজিকে ‘মিশন হেক্সা’ দারুণভাবেই শুরু করলো ব্রাজিল। কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর ১৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকা সেলেসাওরা লুসাইল স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন তিতে শিষ্যরা। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহারা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও রিচার্লিসন ঠিকই লাগালেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট সার্ব গোলরক্ষক ভাঞ্জা মিলানকোভিচ সাভিচ ফেরালে পায়ে বলে পেয়েই পোস্টে পাঠান ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়। এরপর মাঠ ভর্তি দর্শকদের ‘ম্যাজিক মোমেন্ট রিয়ালিটি’তে নিয়ে গিয়ে অ্যাক্রোবেটিক এক শটে করলেন আরেকটি গোল। ফলাফল ২-০ গোলের দারুণ এক সূচনা পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলো জি গ্রুপের দুই দল ব্রাজিল ও সার্বিয়া। লুসাইলে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাত ১টায়।

এদিন, ম্যাচের শুরু থেকেই সার্বিয়াকে চাপে রাখেন তিতে শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণে তারা ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন সার্ব রক্ষণভাগকে। ম্যাচের ৫ম মিনিটে নেইমারকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন পাভলোভিচ। এ সময় বল দখলের লড়াইয়ে বেশ এগিয়েই ছিল ব্রাজিল। ২৬ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নেয়ার প্রথম সুযোগটি পায় সার্বিয়া। কিন্তু, অ্যালিসন বেকার কোনো সুযোগই দেননি প্রতিপক্ষকে।

আর এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ২৭ মিনিটের সময় সামান্যের জন্য নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ৩৫ মিনিটে আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন রাফিনহা। তার সামনে ছিলেন শুধুমাত্র সার্ব গোলকিপার মিলিংকোভিচ সাভিচ। রাফিনহার দুর্বল শট ঠেকিয়ে দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি তাকে।

ম্যাচের ৪০ মিনিটের সময় আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ মিস করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এরপর চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু, কোনোদলই গোলের দেখা না পাওয়ায় প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের সুযোগ মিস করেন রাফিনহা। ৫০ মিনিটে ফ্রি কিক নেন নেইমার। কিন্তু, সেই ফ্রি কিক ঠেকাতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি সার্ব ডিফেন্ডারদের। ৬০ মিনিটে অ্যালেক্স সান্দ্রো জোরালো শট গিয়ে লাগে সার্বিয়ার গোল পোস্টে।

৬১ মিনিটে সার্বিয়ার গোল পোস্ট অভিমুখে শট নেন ভিনিসিয়াস। শটটি তিনি মিস করায় বল পান রিচার্লিসন। নিশ্চিত গোল মিস করেননি তিনি। ফলে ১-০ তে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এরপর, ৭৩ মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক অ্যাক্রোবেটিক কিকে ব্রাজিলকে দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন রিচার্লিসন। এই নিয়ে ৭ ম্যাচে ৯ গোল করলেন রিচার্লিসন।

৮০ মিনিটে নেইমারের পরিবর্তে মাঠে নামেন অ্যান্টনি আর রিচার্লিসনের পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ৮১ মিনিটে ক্যাসেমিরোর শট ক্রসবারে লাগলে আরও গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ৮৩ মিনিটে ফ্রেডের শট ফেরান সার্ব গোলকিপার। এরপর চলে একচ্ছত্র আধিপত্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যোগ করা হয় অতিরিক্ত ৭ মিনিট। কিন্তু এই ৭ মিনিটে বল জালে জড়াতে পারে কোনো দলই।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply