১৯৭১ সালের পরাজয়ের দায় সেনাবাহিনীর নয়, এটা ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা: বিদায়ী পাক সেনাপ্রধান

|

বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। ছবি: সংগৃহীত।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিলেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। তার দাবি, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী ব্যর্থ হয়নি, এটি ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী সবসময়ই প্রভাব খাটিয়ে আসছে বলেও নিজের বক্তব্যে স্বীকার করে নেন জেনারেল বাজওয়া। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাওয়ালপিণ্ডির সেনা হেডকোয়ার্টার্সে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে শেষবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। সেখানেই এসব কথা বলেন তিনি। দেশটির প্রতিরক্ষা ও শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে দেয়া ১০ মিনিটের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল রাজনৈতিক আলোচনা।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গও তোলেন জেনারেল বাজওয়া। তিনি বলেন, এমন একটি বিষয় নিয়ে আজ কথা বলতে চাই, যে বিষয়ে সচরাচর সবাই মুখ বন্ধ রাখে। পূর্ব পাকিস্তানের ব্যর্থতার কারণ রাজনৈতিক। সে সময়কার ব্যর্থতার দায় সেনাবাহিনীর নয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাক সেনাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাই করেছেন এই বিদায়ী সেনাপ্রধান।

১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যুদ্ধরত সেনাবাহিনীর সংখ্যা নিয়েও নতুন এক দাবি জানিয়েছেন জেনারেল বাজওয়া। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না, ছিল ৩৪ হাজার। বাকিরা ছিল বিভিন্ন সরকারি দফতরের লোকজন। আর এই ৩৪ হাজার সেনাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে ভারতীয় বাহিনীর আড়াই লাখ সেনা ও মুক্তিবাহিনীর ২ লাখ প্রশিক্ষিত যোদ্ধাকে। পাকিস্তানের সেনাদের সেই লড়াই ও ত্যাগের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখায়নি জাতি।

তিনি বলেন, আমাদের সেনারা যে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে আর ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মানেক শাহও স্বীকার করেছেন।

নিজের বক্তব্যে পাক সেনাবাহিনীকে নিয়ে ঢালাওভাবে সমালোচনার নিন্দা জানান জেনারেল বাজওয়া। তবে বছরের পর বছর অসাংবিধানিকভাবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তারা আর রাজনীতিতে নাক না গলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও দাবিও করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেনারেল বাজওয়া বলেন, রাজনীতিতে মাথা ঘামানোর বিষয়টি অসাংবিধানিক। সে কারণেই গত ফেব্রুয়ারিতেই রাজনীতি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটি সব পক্ষেরই ভুল ছিল। এটাই সময় সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া ও এগিয়ে যাওয়ার।

এমন এক সময়ে জেনারেল বাজওয়া এ ধরনের মন্তব্য করলেন, যখন ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে এ ইস্যুতে সেনাদের পক্ষেই সাফাই গান তিনি।

২০১৬ সালে পরমাণু শক্তিধর ও ৬ লাখ সদস্যের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নেন জেনারেল বাজওয়া। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমলে ২০১৯ সালে তার মেয়াদ বাড়ে তিন বছর। ২৯ নভেম্বর অবসরে যাবেন ৬২ বছর বয়সী বাজওয়া।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply