আটকে পড়া কিশোর ফুটবলারদের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন কোচ

|

পাহাড়ের গুহার অন্ধকারে আজ ১৪ দিন পার হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে থাইল্যান্ডের একটি গিরিগুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ও তাদের কোচের বিষয়ে। তবে সারা দুনিয়া আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসবে তাদের ছেলেরা।

ফুটবল টিম হিসেবে তারা গিরিগুহায় গিয়েছিলেন অ্যাডভেঞ্চারের জন্য। দলের এক সদস্যের জন্মদিন উপলক্ষে এটি ছিল বিশেষ আয়োজন। থাইল্যান্ডে বর্ষকাল এখনো শুরু হয়নি পুরোপুরি। জুলাইয়ের মধ্য সময় থেকেই নিয়মিত বৃষ্টি হয় সেখানে। ফলে জুন মাসের ২৩ তারিখ গিরি অভিযানে নামা কিশোররা ভাবতেও পারেনি পাহাড়ের ভেতরে যাওয়ার পর মুষলধারে বৃষ্টি আসতে পারে, আর সেই বৃষ্টি থেকে হওয়া বন্যায় তাদের ফেরার পথ ভেসে যাবে।

অভাবনীয় সেই কাণ্ডই ঘটলো। আটকে পড়া অবস্থায় নয় দিন পড়ে থাকলেন গুহার ভেতরে। যখন বেঁচে থাকার সব আশা মিয়ে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ গুহায় হাজির হন ব্রিটিশ দুই ডুবুরি। কিশোররা এই সময়ে দুনিয়ার খবর না রাখতে পারলেও তাদের জন্য ততক্ষণে দুনিয়াবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছে। ওই ব্রিটিশ ডুবুরিদেরকে ডেকে এনেছিলো থাই সরকার কিশোরদের সন্ধানের জন্যই।

তাদের অবস্থান চিহ্নিত করার পর গত ৫ দিনের চলছে উদ্ধারের তোড়জোড়। সারা পৃথিবীর পাহাড় বিশেষজ্ঞ এবং নামকরা ডুবুরিরা এসে জড়ো হয়েছেন পাহাড়াটির নিচে। খাবার-আলো দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ক্ষুদে ফুটবলারদেরকে। সর্বশেষ তারা তাদের পরিবারের সাথে কথা বলেছে। উদ্ধারকারীরা গুহার ভেতরে টেলিফোন লাইন যুক্ত করে বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে।

এদিকে ভেতর থেকে হাতের লেখায় নিজেদের অনুভূতি বিশ্ববাসীর কাছে জানিয়েছেন কিশোররা এবং তাদের কোচ একাপল চান্তাওং। ২৫ বছর বয়সী কোচ কিশোরদের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই গিরিগুহায় ঢুকে টিমটি। একটি কাগজে নিজের বক্তব্য লিখে ডুবুরিদের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন তিনি।

তাতে বলেছেন, ‘সব বাচ্চাদের বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বলছি, তারা সবাই এখনও সুস্থ আছে। উদ্ধারকারীরা যথেষ্ট যত্ন নিচ্ছেন। কথা দিচ্ছি, আমার সর্বোচ্চ সাধ্য মতো তাদের যত্ন নেব। আপনাদের সবার সমর্থন ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আপনাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।









Leave a reply