চীন-মার্কিন পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ, ভুগবে গোটা বিশ্ব

|

দীর্ঘদিন গড়াতে পারে চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ। কারণ বিশাল অংকের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ হলেও দু’পক্ষের মাঝে নেই সমঝোতার আভাস। উল্টো মুক্ত ও বহুজাতিক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সহায়তায় শায়েস্তা করা হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশ্লেষকদের অভিমত, অনমনীয় অবস্থানে ক্ষতিতে পড়বে গোটা বিশ্ব; দু’দেশের কোন্দলে ফায়দা লুটবে তৃতীয় পক্ষ।

শুক্রবার ছিলো পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কালো দিন। মধ্যরাতে চীনের ৩ হাজার ৪শ’ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কার্যকরের পরই প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একই মূল্যমাণের ৫৪৫ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্কের খড়গ বসায় চীন। রাশিয়াও দেশটি থেকে রপ্তানি হওয়া সড়ক নির্মাণ সামগ্রী, তেল-গ্যাস-খনি খাতের প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর চাপিয়েছে শুল্ক।

চীনের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া আচরণের মোক্ষম জবাব দিতে এরইমাঝে বিশ্ব বাণিজ সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র কাছে আবেদন করেছে তারা। আইনি উপায়ে পরাস্ত করা হবে বাণিজ্যিক নীতিমালাকে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে ডব্লিউটিও’র নীতিমালার লঙ্ঘন। এটা নাড়িয়ে দিবে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক কাঠামোর ভীত, গতি হারাবে প্রবৃদ্ধি। চীন বরাবর সংরক্ষণবাদের বিরোধী। তাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হস্তক্ষেপে আইনি উপায়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিরোধ করতে চাই।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, দু’দেশের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক দূর এগোবে বাণিজ্য যুদ্ধ। যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে।

চীনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াং উ বলেন, খুবই খামখেয়ালী আচরণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন দেশের ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। খুব শিগগিরই কোনঠাসা পরিস্থিতির অবসান ঘটবে বলে মনে হয় না। কারণ, বিবদমান পক্ষগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনঢ়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভ ল্যু দ্রিয় বলেন, হুমকি-চাপ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় আছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এটা ভুলে যাচ্ছে যে, এই শুল্কারোপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় তারাও রয়েছে। কারণ যে ইস্পাত-অ্যালুমনিয়ামের ওপর শুল্ক বসানো হলো, সেসব দিয়েই গাড়ি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

পূর্বপ্রস্তুতি থাকলেও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা। দরপতন ঘটে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। সূচকের নিম্নমুখীতার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।









Leave a reply