কালই বিশ্বের জনসংখ্যা ছোঁবে ৮০০ কােটির মাইলফলক

|

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যা আরও একটি মাইলফলক ছুঁতে চলেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিশ্বের মোট জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি। আর আগামী বছরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হতে চলেছে ভারত। ২০২৩ সালেই জনসংখ্যার দিক দিয়ে চীনকেও পেছনে ফেলবে দেশটি। খবর দ্য হিন্দুর।

জাতিসংঘের একটি রিপোর্ট বলছে, চীনের ক্রমশ নিম্নমুখী জন্মহার এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মধ্যকার পার্থক্য ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশে। এর ফলে চীনকে ছাপিয়ে আগামী বছরই ভারত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনবহুল দেশ।

এদিকে, চীনের জনসংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ক্রমেই দেশটির দম্পতিরা সন্তান গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যার সূচকে বেগ আনতে বিশেষ ভাতাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার। তবে তাতে লাভ হয়নি খুব বেশি।

চীনের জন্মহারে এ ধসের কারণ হিসেবে আশির দশকের শুরুতে সরকারের নেয়া একশিশু নীতিমালাকেই দায়ী করেন চীনের সাধারণ মানুষ। জন বিস্ফোরণ ঠেকাতে ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এক শিশু নীতিমালা আরোপ করেছিল চীনা সরকার। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান নেয়ার আইন চালু হলেও পরিবারগুলোয় দ্বিতীয় সন্তান ধারণের মনোভাব ফেরেনি।

মূলত, চীনে ব্যয়বহুল জীবনমানের মধ্যে টিকে থাকতে বাবা-মা উভয়কেই কাজের মধ্যে থাকতে হয়। সন্তান লালন-পালনে তাই অতিরিক্ত সময় ও সামর্থ্যের অভাবেই সন্তান বিমুখতা বাড়ছে দেশটিতে। তাছাড়া দেশটির জনসংখ্যার বড় একটি অংশ হলো বয়স্ক। তারা অর্থনীতিতেও যেমন কোনো অবদান রাখতে পারে না, অন্যদিকে সন্তান লালন পালনেও সাহায্য করতে পারে না। ফলে ন্যানির কাছেই বড় হয় শিশুরা।

এসব বিড়ম্বনা এড়াতেই দেশটিতে কমছে দ্বিতীয় সন্তান নেয়ায় আগ্রহী দম্পতির সংখ্যা। এর প্রভাবে চলতি বছর চীনে জন্ম নিয়েছে ১ কোটি শিশু, যা ২০২০ সালের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে শ্রমশক্তিসহ নানা সংকট দেখবে চীন।

বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে চীনের হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেন জিয়ানফা বলেন, চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ সন্তান জন্মহার শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই নিম্নমুখী। অন্যদিকে, দ্রুতহারে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চললে এক সময় মারাত্মক সংকটে পড়বে চীন। পশ্চিমা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর থেকে শ্রমশক্তিতে পিছিয়ে পড়বো আমরা।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply