দালাল ধরে বিদেশ গিয়ে ক্রীতদাসের জীবন, মুক্তির আকুতি সৌদি প্রবাসীর

|

প্রতিদিন কাজ করতে হয় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা। কিন্তু বেতন মেলে না। আর খাওয়া জোটে কোনোদিন একবেলা, খুবজোর দুই বেলা। দালালের মাধ্যমে সৌদিআরব গিয়ে এমন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন টাঙ্গাইলের আহাদ। ক্রীতদাসের এমন জীবন থেকে মুক্তি চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন যমুনা নিউজের কাছে। দালালের খপ্পরে পড়ে টাঙ্গাইলের এমন অসংখ্য যুবক প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে যমুনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

শুধু আহাদ না টাঙ্গাইলের এমন অসংখ্য যুবক দালালের খপ্পরে পরে নিঃস্ব হয়েছেন এমন তথ্য ছিলো যমুনার কাছে। তাছাড়া প্রবাসী ছেলের এমন বিপদের খবর শুনে কেমন আছেন আহাদের মা-বাবা?

শুরুতেই আহাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার মায়ের সাথে। তিনি জানান, একদিকে ছেলের বিপদ, অন্যদিকে সুদে নেয়া ঋণের বোঝা। দুয়ে মিলে দিশেহারা তারা। স্বজনরা বলছেন, ক্রীতদাসের জীবন থেকে মুক্তি দেয়া হোক আহাদকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ড্রাইভিং ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্থানীয় দালাল কোহিনূরকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেয় আহাদের পরিবার। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকার সুমন ট্রাভেলস ও সানবির ট্রাভেলসের মাধ্যমে আহাদকে ইনডোর ক্লিনিং ভিসায় সৌদি আরব পাঠানো হয়।

সরেজমিন ভুক্তভোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আহাদের মতো অসংখ্য যুবক কোহিনূরের খপ্পরে পড়ে হয়েছেন প্রতারিত। তাদের একজন শাকিল খান। প্রবাসী জীবনের মুখরোচক গল্পে বিভোর হয়ে কোহিনূরকে দিয়েছিলেন এক লাখ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে আর এগোয়নি লেখাপড়া। এখন একুল-ওকুল দু’কুলই হারিয়েছেন তিনি।

তাদের মতো জামিরন বেগম ছেলেকে সৌদি আরব পাঠাতে কোহিনূরকে দিয়েছিলো সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রায় ১ বছর হলেও এখনও বিদেশে যেতে পারেননি তার ছেলে। বারবার চেয়েও টাকা ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ জামিরনের।

এবার কোহিনূরের মুখোমুখি হওয়ার পালা। টাঙ্গাইলের নাগরপুর বাজারে তার একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস রয়েছে। কোহিনূরের দাবি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে সৌদি প্রবাসী আহাদের ভবিষ্যৎ কী; তা জানতে ঢাকার ট্রাভেলস্ এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলছেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবেন।

প্রবাসীদের এসব সমস্যা নিয়ে যাদের সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকার কথা সেই বিএমইটি কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার যোগাযোগ করে, এমনকি অফিসে গিয়েও এ বিষয়ে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply