অকার্যকর যৌক্তিক মূল্য, নির্ধারিত দামে মিলছে না পণ্য

|

যৌক্তিক পণ্যমূল্য নির্ধারণ হচ্ছে, কিন্তু সেই দামে কি বিক্রি হচ্ছে পণ্য! একেবারেই না। কৃষি বিপণন অধিদফতর প্রতিদিন নির্ধারণ করে দেয় ৩৯ পণ্যের দাম। তবে সেই দাম কার্যকর হয় না। দাম যে নির্ধারণ হয় তাও জানে না কেউ। কালেভাদ্রে অভিযান হয়, তবে বাজারে তার তেমন কোনো প্রভাব নেই। ক্যাব সভাপতি বলেছেন, যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে তা কার্যকরে কৌশল বের করতে হবে। তা না হলে ঠকেই যাবে ভোক্তা।

পণ্যমূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে অজুহাতের অন্ত নেই। সুযোগ পেলেই বাড়িয়ে দেয়া হয় দাম। অতি মুনাফা করাই সেখানে উদ্দেশ্য। ক্রেতাকে স্বস্তি দিতে পণ্যের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। পাইকারি বাজার থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে খুচরা পর্যায়ে যৌক্তিক দাম বেধে দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই দামে পণ্য বিক্রি হয় কিনা তা জানতে ২২ সেপ্টেম্বর তৈরি করা বাজার দর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রসুনের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ হয় ৭৮ টাকা। আর আদার বিক্রি মূল্য ধরা হয় ১৫৭ টাকা। কিন্তু ওইদিন এসব পণ্যের দাম কতো ছিল, তা জানতে গিয়ে ধরা পড়ে বড় রকমের ব্যবধান। দোকানীরা জানান, সাদা রসুনের দাম ১৪০ টাকা। লাল রসুনের কেজি ১২০ টাকা। আদার কেজি এখন ১৮০ টাকা।

কেজিপ্রতি কাঁচামরিচের যৌক্তিক দাম ৫৬ টাকা। আর কাঁচা পেঁপের দাম ধরা হয় ২০ টাকা। সবজির মধ্যে ঢেঁড়সের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ হয় ৫০ টাকা। তবে, বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি দামে। বাজার ঘুরে জানা গেলো, কাঁচামরিচের মূল্য এখন ৮০ টাকা কেজি। কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা কেজি। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

অর্থাৎ, বেধে দেয়া যৌক্তিক দামে বিক্রি হচ্ছে না পণ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যবসায়ী পর্যায়ে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে লাভের অংক কিভাবে নির্ধারণ হয়? এ প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান বলেন, খুচরা বিক্রেতা যেন ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য না নিতে পারেন; লাভের একটা নির্ধারিত অংশের সাথে তাই অন্যান্য খরচ যোগ করে প্রতিদিন ৩৯টি পণ্যের দাম বেধে দিচ্ছি।

দাবি করা হয়, দাম নির্ধারণ করে দেবার পর বাজার তদারকি করে কৃষি বিপণন অধিদফতর। কিন্তু তাতে কতোটা প্রভাব পড়ে বাজারে? কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা এই দামে পণ্য বিক্রি করছেন কিনা, সেটাও দেখা হয়। এবং এই দামের বেশি যদি কেউ বিক্রি করেন, তবে শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তি হিসেবে জরিমানা করা হয়।

দাম শুধু বেধে দিলেই হবে না, তা কার্যকরে যথাযথ পদক্ষেপ দরকার। ক্যাব’র সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দাম নির্ধারণের পর তা বাজারে প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চেষ্টা করে তবে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক ব্যাপার হবে।

ভোজ্যতেল এবং চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রড এবং সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করতে শুরু হয়েছে পর্যালোচনা।

আরও পড়ুন: রেমিটেন্সের ডলারের দর কমলো ৫০ পয়সা

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply