আর্জেন্টিনার হারের মূল কারণ

|

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হারের মূল কারণ কৌশলগত। দুর্বলতার জায়াগা যেনেও তিন ডিফেন্ডার খেলানোর ঝুকির ফল বড় হার দিয়ে মেটাতে হয়ে আলবিসেলেস্তাদের। কোচের সাথে একাদশ কম্বিনেশন নিয়ে একমত না হওয়াতেই পুরো ম্যাচে আগ্রহীন মনে হয়েছি মেসিকে এমনটই বিশ্বাস জাবালেতা, বার্লির মত সাবেক ফুটবলারদের।

যেকোন খেলাতেই প্রতিটি দল মাঠে নামতে চায় নিজেদের সেরা কম্বিনেশন নিয়ে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোচ সাম্পাউল করলেন তার উল্টো। মেসিদের দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ভঙ্গুর রক্ষন ভাগ। অথচ রোহেকে বসিয়ে মাত্র তিন ডিফেন্ডার ওটামেন্ডি, মারকাডো ও তাগলিয়াফিকোকে নিয়ে ডিফেন্স গড়েন সাম্পাওলি।

ম্যাচের প্রতিটি গোলেই রক্ষনভাগের দুর্বলতা চোখে পড়েছে মোটা দাগে।

প্রথম গোলে গোলরক্ষক কাবায়ারোকে খলনায়ক করা হলেও বড় দায় ছিল ওটামেন্ডির। কাউন্টার অ্যাটাকের এই ক্রস ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ এই ডিফেন্ডার।

মডরিচ দ্বিতীয় গোল করার জন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা ছাড়াই ডানে বায়ে ঘুরে জায়গা করে বুলস আইতে হিট করলেন। অথচ ঠায় দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার চার ফুটবলার।

তৃতীয় গোল করছেন রাকিটিচ অথচ পেছনে দাড়িয়ে মাশচেরানো, ওটামেন্ডি আর মেসি চেস্টাও করেনি তাকে রুখতে।

ফুটবল মাঠে মেসির এমন রুদ্রমূর্তি খুব কমই দেখা যায়। এলএমটেনের এই রাগটা ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারদের চেয়ে কোচ সাম্পাউলির উপরই হয়ত বেশি হয়েছে। কেননা, ম্যাচের শুরু থেকেই অখুশি মনে হয়েছে বিশ্বসেরা এই ফুটবলারকে। পুরো ম্যাচে মেসি হাতে গোনা দুটি শট নিয়েছেন। বল পাননি এমনকি দল পিছিয়ে পড়ার পরও বল দখল করার চেষ্টাও করেননি যা মেসির চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্বকাপের আগে মাত্র একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলায় সেরা কম্বিনেশন খুজে পাননি সাম্পাওলি। আস্থাহীনতায় পিছিয়ে পড়ার পরেও, সাবস্টিডিউট করেছে আগুয়েরোকে। কিন্তু তখন প্রয়োজন ছিল আক্রমণের ধার বাড়ানোর। বড়তি একজন স্ট্রাইকার হতে পারত ভাল অপশন। সবকিছু মিলে দল হিসেবে অগোছালো আলবিসেলেস্তাদের অসহায় আত্মসমর্পণ।

আর ম্যাচ শেষে এই শিশুর মতই লাখ লাখ আর্জেন্টাইন সমর্থকদের অশ্রুশিক্ত চোখ নির্ঘুম রাত।

 









Leave a reply