যমুনা টিভির খবর দেখে রহিমাকে চিনতে পারেন আশ্রয়দাতার ভাগ্নে

|

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:

খুলনার দৌলতপুর থেকে নিখোঁজের ২৯ দিন পর রহিমা বেগমকে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রহিমা যে বাড়িতে ছিলেন, সেই বাড়িওয়ালার ভাগ্নে জয়নাল খান (৩৫) জানান, যমুনা টেলিভিশনের খবরে ছবি দেখেই মামার বাড়িতে ‘বেড়াতে আসা’ ওই নারীকে চিনতে পারেন তিনি।

কুদ্দুস মোল্যার ভাগ্নে জয়নাল খান জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার মামার (কুদ্দুস মোল্যা) বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে আশ্রয় নেন রহিমা বেগম। ২৩ সেপ্টেম্বর যমুনা টিভিতে ওই মহিলার ছবিসহ নিখোঁজের একটি সংবাদ দেখেন তিনি। পরে বিষয়টি তার মামাত ভাই আল আমিনকে জানান তিনি। জয়নাল বলেন, নিখোঁজ সংবাদ দেখে সেখানকার ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করি। এক নারী ফোন ধরে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাকে আর কখনও ফোন করতেও নিষেধ করেন তিনি।

বিষয়টি বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোশারফ হোসেনকে জানান তিনি। তার সহায়তায় শনিবার রাতে খুলনার পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি জানান তারা। পরে খুলনা থেকে একদল পুলিশ এসে রহিমা বেগমকে নিয়ে যায়। এসময় তারা রহিমার আশ্রয়দাতা কুদ্দুস মোল্যা, তার স্ত্রী হীরা বেগম (৬০), ছোট ছেলে আল আমিন (২৫), এবং ভাবি রেহেলা বেগমকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে খুলনা নিয়ে যায়।

খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। ফরিদপুরে তাকে আশ্রয়দাতা কুদ্দুস মোল্যা ২৫ বছর আগে খুলনায় রহিমার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কুদ্দুসের ভাগ্নে জয়নাল জানান, ৭ দিন আগে কুদ্দুস মোল্যার বাড়িতে ওঠেন রহিমা বেগম।

প্রসঙ্গত, রহিমার মেয়ে মরিয়ম বেশকিছুদিন ধরে সংবাদ সম্মেলন করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করছিলেন, গত ২৭ আগস্ট রাতে উঠানের নলকূপে পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন তার মা। রাতেই রহিমা বেগমের ছেলে দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন তার মেয়ে আদুরী আক্তার অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা করেন। মায়ের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় মানববন্ধনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করে আসছিলেন সন্তানরা। একপর্যায়ে তারা তার মাকে মৃত বলেও শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, এ মামলায় তারা ৬ জনকে গ্রেফতারও করেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব জানান, খুলনা মহানগর পুলিশের এডিসি আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল বোয়ালমারী থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে। তাদেরকে অবহিত করেই জিজ্ঞাবাদের জন্য আশ্রয়দাতা পরিবারের কয়েকজনতে আটক করেছে খুলনা পুলিশ।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply