হাপিত্যেশ করা মরক্কোকে বিদায় করলো রোনালদো

|

ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলেরই খেলা। কোনো দল যতই ভালো খেলুক, গোলের দেখা না পেলে জয়ী হওয়ার উপায় আছে? বি-গ্রুপের মরক্কোর-পর্তুগাল খেলাটির কথাই ধরুন না, দারুণ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল হলো। দু’দলই আক্রমণাত্মক খেলেছে বটে, কিন্তু মরক্কোর পাল্লা ছিল ভারি। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে তারা। সারা মাঠজুড়ে বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল। শুধু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে, খেলার ৪ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলে এগিয়ে যাওয়া পর্তুগাল ১-০ গোলে জয় নিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে। আর একরাশ হতাশা নিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো হার্ভ রেনার্ডের শিষ্যদের।

বুধবার রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় পর্তুগাল ও মরক্কো। খেলার মাত্র ৪ মিনিটে অসাধারণ এক হেডে গোল করে পর্তুগালকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন সিআর সেভেন। এ গোলের মাধ্যমে বিরল এক রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি করে গোলের রেকর্ড এখন এই দু’জন ভাগাভাগি করছেন। যেমনটা খেলছেন তাতে খুব দ্রুতই ম্যারাডোনাকে অতিক্রম করে যেতে পারেন রোনালদো।

৯ মিনিটের মাথায় আরও একটি গোল পেতে পারতেন রোনালদো। মরক্কোর রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে ডি বক্সের ডান দিক থেকে শট নেন পর্তুগিজ তারকা। কিন্তু তার শটটি গোলবারের বাম পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে যাওয়া মরক্কো গোল পরিশোধে মরিয়া প্রচেষ্টা চালায়। ম্যাচের ১১ মিনিটে মেধি বেনাতিয়া বক্সের মধ্য থেকে নেয়া হেড ফিরিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক রুই প্যাত্রিসিও। ম্যাচের ১৮ মিনিটে হাকিম জিয়েচ গোলবার লক্ষ্য করে শট নিলেও তা রুখে দেয় পর্তুগাল। ঠিক পাঁচ মিনিট পর হাকিম ফের আরেকটি শট নেন কিন্তু পর্তুগালের গোলরক্ষক তা আটকে দেন।

খেলার ২৫ মিনিটে মরক্কোর পেনাল্টির আবেদন করে। কিন্তু রেফারি সায় দেননি। মরক্কোর স্ট্রাইকারকে জার্সি টেনে মাটিতে ফেলে দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি উত্তর আফ্রিকার মুসলিম প্রধান এ দেশটি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও মরিয়া প্রচেষ্টা চালায় মরক্কো। একের পর এক আক্রমণ চালায় পর্তুগালের জালে। মাঠজুড়ে বল দখলেও পর্তুগালের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু গোল নামক সোনার হরিণটির দেখা না মেলায় হার মানতে হয় তাদের। ২০ বছর পর বিশ্বকাপের আসরে ফিরেও সবার আগে বিদায় নিতে হলো তাদের। দু’ম্যাচ হারার পর মিশরের বিদায় অনেকখানি নিশ্চিত হলেও কিছু গাণিতিক যদি, কিন্তু রয়ে গেছে।

প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করে খেলেও গোলের দেখা পায়নি মরক্কো। উল্টো শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে হারতে হয়েছে তাদের। পর্তুগালের বিপক্ষেও সেই ১-০ গোলের পরাজয়। গোল করতে না পারলে, ভালো খেলার মূল্য কতটুকু? চিরায়ত সেই প্রশ্নটিই যেন আরেকবার হাজির করলো মরক্কো। হায় মরক্কো!

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply