দৌলতদিয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

|

রাজবাড়ী প্রতিনিধি :
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকেই লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও বাস টার্মিনালে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বিকেল থেকে এই চাপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

আগামীকাল শুক্রবার (১৫ জুন) ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ঘাট কর্তৃপক্ষ।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রী পোশাক শ্রমিক মোঃ মাসুদ বলেন, পাটুরিয়া ঘাটে যানজট রয়েছে। তবে, দৌলতদিয়া ঘাটে কোন ভোগান্তি নেই। দেখে মনে হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে দৌলতদিয়া ঘাটে এবার সর্বকালের সেরা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে যশোরগামী যাত্রী মোঃ সোহাগ বলেন,পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি কম।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৪ থেকে ১৫টি ফেরি চলাচল করে। কিন্তু, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাহবাহনের বাড়তি চাপ সামলাতে এ নৌরুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। নদীতে বর্তমানে নাব্যতার সংকট নেই। এ কারণে ফেরিগুলো পূর্ণ লোড নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।

আর যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বুধবার থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য সব ধরনের ট্রাক ও লড়ি ফেরি দিয়ে পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত এসব যান পারাপার বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া দৌলতদিয়ায় পাঁচটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে ও ফেরির যান্ত্রিক ক্রটি দেখা না দিলে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা উপভোগ করতে পারবে।

এদিকে, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন জানান,দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী পারাপারের জন্য ৩৩ টি লঞ্চ চলাচল করছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে কর্তব্যরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব অফিসার মো. ইউসুফ মোল্লা জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের লঞ্চে উঠানামায় সহযোগিতা করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিসহ আটজন সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী জানান, ঈদকে ঘিরে লঞ্চ ও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ভাড়া আদায় ঠেকাতে দৌলতদিয়া ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, ঈদকে ঘিরে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও পকেটমারসহ সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে দৌলতদিয়া ঘাটে পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।









Leave a reply