রোহিঙ্গা সংকটের ৫ বছর: প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আশ্বাসেই কাটবে দিন?

|

নানা ইস্যুতে গুরুত্ব হারিয়েছে ৫ বছরে গড়ানো রোহিঙ্গা সংকট। কিন্তু জানা নেই এর সমাধান কোথায়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কবে হবে, সেটাও অনিশ্চিত। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিশ্লেষকরা বললেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়ানোসহ মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরোধী পক্ষের সাথেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাস আর মাদকের রাজত্ব। এর ফলাফল হচ্ছে নড়বড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া থানায় গত ৫ বছরে এমন সংঘাত ও অপরাধের সংখ্যা অগণিত। আর এই নিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কা বাড়ছে স্থানীয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কোনো উদ্যোগই এ পর্যন্ত দেখেনি আলোর মুখ। বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা আশ্বাসেই কেটে গেছে ৫ বছর।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা এখানে স্থায়ী হয়ে গেল কিনা, তা সময়ই বলতে পারবে। তারা স্থায়ী হয়ে যাবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমনটা মেনে নেয়া কখনোই সম্ভব না।

প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অসহযোগিতাই প্রতিবন্ধকতার মূল কারণ; এমনটা উল্লেখ করেন বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যাকে আমরা সেরকম পর্যায়ে নিতে পারিনি। অথবা রোহিঙ্গা সমস্যা সেই পর্যায়ে যায়নি। এটা একেবারেই বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের খুব একটা সদিচ্ছা এখন নেই। এখন যদি সদিচ্ছা না থাকে, প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের বড় বক্তব্য এখানে রয়েছে। প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা, যে সংক্রান্ত ইস্যুই টানা হোক, আমাদের শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতিতে যেতেই হবে।

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরোধী হিসেবে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এখনই তাদের সাথে ঐকমত্য গড়ে তোলা।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এনইউজির সাথে আমাদের সহযোগিতা ও যোগাযোগ শুরু করা দরকার। এমন না যে তারা শক্তি অর্জন করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে হারিয়ে কালই ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু কোনো একটা সময়ে গিয়ে তাদের সাথেই আলোচনা করে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির একটা সমাধান করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান বলেন, বিকল্প পন্থাগুলো চিন্তা করতে হবে। আমরা এতদিন ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাইনি। আমার মনে হয়, এখন সেদিকে যেতে হবে। আমাদেরকে সামরিকভাবে বাধা তৈরি করতে হবে। সেজন্য যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, সেগুলো করতে হবে।

প্রত্যাবাসন সম্ভব না হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ যে আরও বাড়বে সে বাস্তবতা সবারই জানা। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মাঝেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথে হাঁটবে বিশ্ব, সেই প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের।

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply