ফের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে তুরস্ক-ইসরায়েল

|

ছবি: সংগৃহীত

চার বছর পর আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে তুরস্ক ও ইসরায়েল। তেল আবিব জানায়, পূর্ণমাত্রায় কূটনৈতিক সম্পর্ক চালুর বিষয়ে একমত হয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এই সম্পর্কের ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে তেল আবিব এবং আঙ্কারা। তবে ফিলিস্তিনের অধিকারের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তুরস্ক।

২০১৮ সালে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। যাতে প্রাণ যায় ৬০ ফিলিস্তিনির। ওই ঘটনার পর তেল আবিব থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার করে আঙ্কারা। এরপর থেকেই কূটনৈতিক সম্পর্কে শিথিলতা দেখা দেয় ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে।

চলতি বছর মার্চে তুরস্ক সফর করেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরগোজ। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনস্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই প্রচেষ্টাই অবশেষে আলোর মুখ দেখলো। বুধবার তুরস্ক এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে আবারও পুর্ণমাত্রায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে দুই দেশ।

তরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভোসোগলু বলেন, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তুরস্ক সফরের পর থেকেই তেল আবিবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী হয় আঙ্কারা। তারই অংশ হিসেবে দু’পক্ষই রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরায়েল এবং তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর মাধ্যমে শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণই বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরগোজ বলেন, দুই দেশের মানুষের স্বার্থে এই সম্পর্কন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। তুরস্ক এবং ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গেল বছর যে প্রচেষ্টা শুরু করেছিলাম তারই ফলাফল এটি।

তবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কন্নয়ন হলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীতির কোনো পরিবর্তন আনবে না আঙ্কারা। এ বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বিষয় আমরা স্পষ্ট করতে চাই। আর তা হলো, ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। গাজা, জেরুজালেম এবং পশ্চিমতীরের অবরুদ্ধ মানুষদের অধিকারের বিষয়ে আমরা সব সময়ই সচেষ্ট থাকবো।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার একবছর পর ১৯৪৯ সালে দেশটিকে স্বীকৃতি দেয় তুরস্ক। যা ছিল কোনো ইহুদি রাষ্ট্রকে কোনো মুসলিমপ্রধান দেশের প্রথম স্বীকৃতি।
আরও পড়ুন: কাবুলে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ইমামসহ নিহত অন্তত ২০
ইউএইচ/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply