চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: গভীর রাতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর

|

পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, বরিশালের মোতালেব ও বিল্লাল, মাদারীপুরের রুবেল, কুমিল্লার শরিফ, সিলেটের স্বপন সরকার এবং শরীয়তপুরের ওসমান। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে মিটফোর্ট হাসপাতাল থেকে মরদেহ বুঝে নেন স্বজনরা। তবে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে নিতে প্রায় ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় স্বজনদের। এতে ক্ষুব্ধ হন তারা।

মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবুও প্রকৃত স্বজনের খোঁজে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হয় জানান কর্মকর্তারা। অবশেষে রাত প্রায় দেড়টার দিকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, নিহত সবার দেহের অধিকাংশই পুড়ে গেছে আগুনে। মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. মো. ওমর ফারুক জানান, মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে মরদেহগুলোর। যদিও মরদেহগুলোকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবুও পরবর্তী তদন্তের সাপেক্ষে আমরা প্রত্যেকটির ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখবো।

এদিকে, দাফন ও সৎকারের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের কারখানা ও ভবনে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা জানা যাবে তদন্তের পর।

যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ কারখানায় পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব কারখানা বন্ধে প্রশাসন নানা সময়ে নানা উদ্যোগের কথা বললেও বহাল তবিয়তে চলছে সেগুলো। কারও কারও অভিযোগ, অবৈধ এসব কারখানা চালাতে প্রশাসনসহ উচ্চমহলের যোগসাজশ রয়েছে।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply