বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরা কে কোথায়?

|

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কুশীলবদের খোঁজে কমিশন গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ অনুযায়ী দ্রুতই পরিকল্পনাকারীদের খোঁজার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তবে পলাতক খুনিদের তিনজনের অবস্থান এখনও শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেনি সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা দুজনকে ফেরত আনার চেষ্টা চলমান। যদিও এ ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে ছয়জনের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। অপর ছয়জনের মধ্যে পাচঁজন এখনো বিদেশে পালাতক। এরা হলেন-খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এবিএমএইচ নূর চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন ও রাশেদ চৌধুরী।

সরকারের তথ্যমতে, রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং নূর চৌধুরী কানাডায় স্থায়ীভাবে বাস করছেন। বাকিদের সম্পর্কে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর ধরেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

২০২০ সালের এপ্রিলে কার্যকর হয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনি আব্দুল মাজেদের ফাঁসি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর এই রায় কার্যকর হলেও এখনও অধরা আরও পাঁচ খুনি। এদের মধ্যে ২০১৯ সালে রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের নথি তলব করেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, তারপরও দ্বিপাক্ষিক সব ফোরামেই এই খুনিকে ফেরত চেয়েছে ঢাকা। আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে কানাডায় থাকা খুনি নূর চৌধুরীর কোনো তথ্যই দিচ্ছে না দেশটি।

অন্য তিন খুনি আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে পরোয়ানা জারি করেও তথ্য পায়নি ইন্টারপোল। রশিদ পাকিস্তানে, স্পেনে ডালিম, আর মোসলেহ উদ্দিন জার্মানিতে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুনিদের পাশাপাশি এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান জরুরি বলে মনে করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অবশেষে সেই পথে হাটছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিশন গঠন হচ্ছে বলেও জানালেন মন্ত্রী।

হত্যাকাণ্ডের তিন যুগ পর ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস হত্যার রায় হয়। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরপরই পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করে বাংলাদেশ।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply