‘না জেনে বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত’; সুইস ব্যাংকে অর্থপাচার ইস্যুতে হাইকোর্ট

|

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা নিয়ে না জেনে ভুল তথ্য দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে এসব তথ্য জানান দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ৬৭ জন বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য চেয়েও পায়নি বাংলাদেশ। রোববারের মধ্যে সুইস ব্যাংক সম্পর্কিত সকল তথ্য ও পদক্ষেপ লিখিত আকারে দুদক, রাষ্ট্রপক্ষ ও বিএফআইইউকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে, শুনানীতে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আইনজীবী জানান, এখন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে কেবল একজনের তথ্য দেয়া হয়েছে। এ বছরের ১৭ জুন এগমন্ড চুক্তি অনুযায়ী আবারও তথ্য চাওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২১ আগস্টের মধ্যে দুদকের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য লিখিত আকারে হলফনামা করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। দুদকের আইনজীবী বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা বা তলব চাওয়া যায় না। তবে অসত্য তথ্য দেয়ার আগে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

এ বছরের ১৩ জুন এগমন্ড চুক্তি অনুযায়ী আবারও তথ্য চাওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে। বলা হয়, সুইস রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যে মনে হচ্ছে দুদক ও সরকার টাকা পাচারকারীদের সেভ প্যাসেজ দিচ্ছে। গত ১০ আগস্ট সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য চায়নি বলে জানিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড। পরদিন এ বিষয়ে তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি, ২০১৪ সাল থেকে আমরা কীভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছি তা দেখুন। এসব তথ্য প্রমাণ পড়ে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রদূত যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অবশ্যই সঠিক না। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি এই বক্তব্য দেননি।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply