ভারত ভাগের ৭৫ বছর আজ

|

ছবি: সংগৃহীত।

‘‍‍তেলের শিশি ভাঙলো বলে, খুকুর পরে রাগ করো; তোমরা যে সব বুড়ো খোকা, ভারত ভেঙে ভাগ করো’। অন্নদাশঙ্কর রায়ের মতো এভাবে অনেক কবি-লেখক, রাজনীতিবিদ ১৯৪৭ এর ভারত ভাগের সমালোচনা করেছেন। আবার ভারত-পাকিস্তানের পথ ধরে বাংলাদেশসহ তিন রাষ্ট্রের জন্মও অনিবার্য। ভারত ভাগের ৭৫ বছরে এসে আক্ষেপ ও প্রাপ্তি পাশাপাশি নিয়েই জীবনযাপন করছেন জন্মভিটা ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো। বছর ঘুরে আবারও তাদের সামনে উপস্থিত ১৪ আগস্ট।

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে উৎসব মুখর পাকিস্তান আর ভারত। উভয় দেশে ঐতিহাসিক এ দিনটিকে ঘিরে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। তবে দেশ দু’টির পরিবার বিচ্ছিন্ন লাখো মানুষের স্বাধীনতার মধুর স্বাদের পাশাপাশি রয়েছে বিষাদের স্মৃতিও। তেমনই একজন পাকিস্তানের আলি হাসান। এক বছর বয়সে দিল্লি থেকে দাদা-দাদির সাথে করাচি আসেন তিনি। আর পরিবারের বাকি সদস্যরা ভারতে থেকে যায়। এরপর থেকে পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন ৭৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি। সবশেষ ২০১৪ সালে দিল্লি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন আলি হাসান। এরপর মা আর দুই বোন মারা গেলেও শেষ দেখা হয়নি। এক ভাই আছে দিল্লিতে, তারও সাথে সাক্ষাৎ নেই দীর্ঘ আট বছর।

আক্ষেপের কথা জানিয়ে আলি হাসান বলেন, ভিডিও কলে ভাইয়ের সাথে কথা হলেও তাকে তো বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি না। তাকে স্পর্শ করতে পারি না। নিজের জন্মভূমি দেখি না কত বছর। এই কষ্ট কি ঘোচানো সম্ভব?

জন্মভূমিকে শেষবারের মতো দেখার স্বপ্ন বুকে নিয়ে অন্তিম দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন এই বৃদ্ধ। বললেন, নিজের পরিবার আত্মীয়-স্বজন সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন। আমি নাতিদের নিয়ে শেষবারের মতো নিজের জন্মস্থান থেকে ঘুরে আসতে চাই।

ওদিকে দিল্লিতে সীমান্তের অপর পাশে থাকা সৈয়দ আবিদও জানেন না ভাই আলি হাসানের সাথে আর দেখা হবে কিনা। আর একটিবার ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় আছেন তিনিও। সৈয়দ আবিদ বলেন, আমাদের মতো এমন হাজারো পরিবার আছে যারা দেশভাগের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটা যে কী যন্ত্রণা, শুধু যার হয় সেই বোঝে। এই কষ্ট কোনোভাবে লাঘব করা সম্ভব না।

দেশভাগের মাধ্যমে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে। তবে যে ২ কোটি মানুষকে জন্মস্থান আর পরিবার থেকে আলাদা করেছে র‍্যাডক্লিফ লাইন, সেই হাহাকারের কোনো শেষ নেই। তাই দেশ দুটিতে স্বাধীনতা দিবসের গৌরবের পাশাপাশি আছে আক্ষেপ আর হাহাকারও।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply