কথা বলতে পারছেন না সালমান রুশদি, হারাতে পারেন একটি চোখ

|

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে আছেন তিনি। সালমান রুশদির এজেন্ট অ্যান্ড্রু উইলি বলেছেন, এই লেখক এখনও কথা বলতে পারছেন না এবং একটি চোখ হারাতে পারেন। এমনটি জানিয়েছে বিবিসির একটি প্রতিবেদন।

১৯৮৮ সালে বিতর্কিত উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’র জন্য মুসলিম বিশ্বে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন রুশদি। তাকে হত্যার জন্য ফতোয়া ও ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যে পুলিশি প্রহরায় সালমান রুশদি আত্মগোপনে ছিলেন প্রায় ৩ দশক।

সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার নামক এক যুবককে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। সন্দেহভাজন যুবক নিউ জার্সির বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (১২ আগস্ট) পশ্চিম নিউইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে লেকচার শুরুর কিছুক্ষণ আগে স্টেজে সালমান রুশদির পরিচিতিমূলক পর্ব চলাকালীন অতর্কিতে এসে লেখকের ওপর হামলা করে এক ব্যক্তি। ঘুষি এবং উপর্যুপরি ছুড়িকাঘাত করা হয় সালমান রুশদিকে। আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান রুশদি। এরপর হামলাকারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, সালমান রুশদিকে ঘাড়ে ও পেটে অন্তত একবার করে ছুড়িকাঘাত করা হয়। এরপর হেলিকপ্টার যোগে এই লেখককে পেনসিলভেনিয়ার এরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সালমান রুশদির ওপর হামলার মোটিভ এখনও খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। তাছাড়া ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ব্যাগ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যাপারেও সার্চ ওয়ারেন্ট তৈরিতে কাজ করছে তারা।

সালমান রুশদির এজেন্ট অ্যান্ড্রু উইলি বলেছেন, একটি চোখ হারাতে পারেন সালমান। তাছাড়া তার বাহুর স্নায়ুও ছিঁড়ে গেছে। তার লিভারও ছুড়িকাঘাতে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাফেলো শহরের বাসিন্দা লিন্ডা আব্রামস। নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তিনি বলেন, হামলাকারীকে সালমান রুশদি থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পাঁচজনকে জোর খাটাতে হয়েছে। কিন্তু তবুও ছুড়িকাঘাত করে যাচ্ছিল সেই হামলাকারী। বোঝাই যাচ্ছিল, প্রচণ্ড রেগে ছিল সে। আর হামলাকারী ছিল দারুণ ক্ষিপ্র ও শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: সালমান রুশদিকে নিয়ে বিতর্কের শুরু যেখানে

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply