খাদ্য সঙ্কটের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে আফগানিস্তানের শিশুদের ওপর: ইউনিসেফ

|

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য সঙ্কট ও চলমান অস্থিতিশীলতার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে আফগানিস্তানের শিশুদের ওপর। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা এবং শিশুমৃত্যুর হার। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

ইউনিসেফ বলছে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই এই সঙ্কট বেড়েছে। বিদেশি দাতাদের সহায়তা বন্ধ হওয়াকে যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দারিদ্র্যের কথা বলতে গিয়ে এক নারী জানান, আমাদের কোনো অর্থ নেই। গর্ভকালীন ভালো খাবারও খেতে পারিনি, ওষুধ কেনার মতও অবস্থা ছিল না। আমার বাচ্চাটা পুষ্টিহীনতা নিয়েই জন্ম নেয়। ওকে ভালো চিকিৎসা দেয়ার মত অবস্থাও নেই। চোখের সামনে সন্তান ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে এটা মেনে নিতে পারছি না কোনোভাবেই।

আরেক নারী জানান, একমাস বয়স থেকেই আমার বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ। ওকে দুধ, ডিমের মত পুষ্টিকর খাবার দিতে পারি না। বিশ্বের কাছে আমরা ন্যায়বিচার চাই। কেন আমাদের দিকে তারা একটু তাকিয়ে দেখেন না। এভাবে আর কতদিন কষ্ট ভোগ করবো?

ইউনিসেফ বলছে, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর মানবিক সঙ্কট প্রকট হতে শুরু করে আফগানিস্তানে। এর অন্যতম কারণ রাতারাতি বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এতে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকে দেশটির অর্থনীতিতে। এর সাথে তাল মিলিয়ে খাদ্য, সুপেয় পানি, চিকিৎসার অভাবে বেড়েছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা।

আফগানিস্তানের ইউনিসেফ কর্মকর্তা মেলানি গ্যাভিন বলেন, দারিদ্র্য অপুষ্টির প্রধান কারণ। এছাড়া পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানির অভাবও অনেকাংশে দায়ী। গেল এক বছরে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, চলতি বছর আফগানিস্তানে পুষ্টিহীনতার শিকার হবার শঙ্কায় রয়েছে ৫ বছরের কম বয়সী কমপক্ষে ১১ লাখ শিশু। মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বিদেশি সহায়তা চালুর আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থা।

ইউএইচ/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply