অর্থনীতি বেগবান করতে নানামুখী উদ্যোগ সরকারের, ডিসেম্বরেই স্বস্তি ফিরবে বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

|

অর্থনীতির ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে পোশাক খাতের পাশাপাশি আইসিটি ও জনশক্তি রফতানির খাতটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা বিভাগ বলছে, ছোট ছোট উদ্যোগে অর্থনীতির চাকা আবারও বেগবান হবে। রফতানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হলে বিদেশি ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না বলেও বিশ্বাস গবেষকদের।

দেশে নিত্যপণ্যের অস্থির বাজার, রেমিট্যান্স সংকট ও ডলারের চড়া দামের কারণে পণ্য আমদানি করা এখন বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এরই মাঝে আশার আলো দেখাচ্ছে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি। বিলাসী পণ্য আমদানি কমায় গত মাসে দেশে ৩০০ কোটি ডলার খরচ কমেছে। অথচ মার্চেই বিদেশ থেকে পণ্য আনতে ব্যয় হয় এর ৩ গুণ।

লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে তা শিল্পে কাজে লাগাতে চায় সরকার। আগামী কয়েক বছর রফতানিতে গড়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করাই এখন লক্ষ্য। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ১১২টি দেশে ফার্মাসিটিক্যাল পণ্য রফতানি করে আমাদের আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, আমরা ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছি, আইসিটি পণ্য ও সার্ভিসে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার অর্জন করেছি। কাজেই অর্থনীতির এই যে বহুমুখী সাফল্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে ২০৩০ সালেও কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

এদিকে, আইএমএফের বাজেট সহায়তা নিয়ে একাধিক দফতরে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য সহযোগীরাও। গবেষকরা বলছেন, অর্থনীতির স্বার্থে এখন বিদেশি ঋণ নিতে বাধা নেই। তবে কার্যকর খাতে ব্যবহার না হলে, এই দেনা বোঝা হয়ে যাবে। তাই বিনিয়োগ করতে হবে উৎপাদনশীল খাতে।

এনিয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে চার্টটি দেখতে পাচ্ছি আমরা এটি হয়তো ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। কিন্তু আমি আপনাকে আগামী ২ বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রক্ষেপণ দেখাতেই পারি। এটা এখানে হচ্ছে। এছাড়া আগামীতে ধীরে হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসবে বলেও মত তার।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্কলনে বলা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরে দেশের অর্থনীতিতে অস্বস্তি কেটে যাবে। তখন জ্বালানি তেলের দামসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের সুযোগ আসবে।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply