চীনের সাথে তাইওয়ানের বিবাদ শুরু যেভাবে

|

৭০ বছর ধরেই চলছে চীন-তাইওয়ান বিবাদ। ঐতিহাসিকভাবে চীনের অংশ হিসেবেই পরিচিত অঞ্চলটি। প্রায় ২ দশক আগে তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার উদ্যোগ থেকেই চীন-তাইওয়ান সামরিক উত্তেজনার শুরু। তবে গেল কয়েকদিনে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা আগে দেখা যায়নি কখনোই।

১৮৯৫ সালে জাপান দখলে নেয়ার আগ পর্যন্ত তাইওয়ান ছিল চীনেরই অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে আবারও ভূখণ্ডটি চীনের অধীনে আসে। ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিউস্ট বিপ্লবের পর তাইওয়ানে আশ্রয় নেন জাতীয়তাবাদী চিয়াং কাই-শেক। পরের বছর সেখানেই সরকার গঠন করেন তিনি। দাবি করেন, তারাই সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার। সেই দাবিকে স্বীকৃতিও দেয় পশ্চিমা বিশ্ব আর জাতিসংঘ। তখন থেকেই চীন-তাইওয়ান বিবাদের শুরু।

১৯৭১ সালে তাইপের পরিবর্তে বেইজিংকেই চীনের মূল সরকার হিসেবে মেনে নেয় জাতিসংঘ। পরে এক দেশ দুই নীতির মাধ্যমে তাইওয়ানের সাথে সম্পর্কন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। যেখানে বলা হয়, তাইওয়ান চীনের অধীনে থাকবে, তবে ভোগ করবে স্বায়ত্বশাসনের অধিকার। তাইওয়ান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্বাধীন তাইওয়ান গঠনের উদ্যোগ নেন। তা ঠেকাতে প্রয়োজনে সমরশক্তি প্রয়োগে আইন প্রণয়ন করে চীন। পশ্চিমারাও তাইওয়ানকে সহায়তার ঘোষণা দেয়। সেই থেকেই বেড়েই চলছে সামরিক উত্তেজনা।

২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তখন থেকেই দক্ষিণ চীন সাগর আর তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়াতে থাকে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় পশ্চিমা শক্তি।

নেভাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ঝ্যাং জুনশি বলেন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষার নামে মার্কিন স্পিকার এশীয় অঞ্চলে তার মিত্রদের সাথে সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। এটা আসলে মার্কিন স্বার্থকে এই অঞ্চলে জোর করে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। চীনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দেশগুলোকে একাট্টা করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। আর এর নাম দেয়া হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, চীনকে সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতেই কি মার্কিন কংগ্রেস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর? বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে বেইজিং। তাই রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।

গবেষক ঝ্যাং জুনশি বলেন, স্পষ্টতই ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ওই অঞ্চলে সামরিক সংঘাতকে উস্কে দেবে। তবে আমার মনে হয় না তাতে খুব বেশি সফল হবেন পেলোসি। অন্যান্য দেশ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা দিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে চীন সেই ভুল করবে না বলেই ধারণা তার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে বাণিজ্যিক পরাশক্তি চীন সরাসরি তাইওয়ান নিয়ে যুদ্ধে জড়াবে না। তবে যে বিপুল পরিসরে মহড়া চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনও ঘটে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply