মৃত্যুর পরও শুকরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ সচল করতে সক্ষম মার্কিন বিজ্ঞানীরা!

|

ছবি: সংগৃহীত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের কারণে মানুষ এখন অসাধ্যকেও সাধন করছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে মানুষের অর্জিত জ্ঞানের পরিধি। তবে এবার একদল মার্কিন বিজ্ঞানীর করা গবেষণা চমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। মৃত্যুর এক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানীরা একটি শুকরের হৃদপিণ্ডসহ শরীরের বেশ কিছু অঙ্গকে সচল করতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ন্যাচার’এ গত ৩ আগস্ট গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিজ্ঞানীদের এ গবেষণার মাধ্যমে একটি মৃত শুকরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং শরীরের টিস্যু সচল করা গেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, তাদের গবেষণার ফলে মৃত্যুর এক ঘণ্টা পর শুকরটির হৃদপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ পুনরুজ্জীবিত করেছেন তারা। এছাড়া এর লিভার, কিডনি এবং শরীরের বিভিন্ন টিস্যুকেও সচল করা গেছে। তবে মৃত শুকরটির মস্তিস্কের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ফলে মৃত্যুর পর অঙ্গ-প্রতঙ্গ সচল হলেও শুকরটি অনুভূতি ফিরে পেয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি।

মূলত, অর্গানএক্স নামের একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা বলছেন, মৃত্যুর সাথে সাথেই কোনো জীবিত প্রাণীর সমস্ত কোষের কার্যকলাপ নিঃশেষ হয়ে যায় না। তাই শুকরটির মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই অর্গানএক্স প্রক্রিয়ার আওতায় তার শরীরে বিশেষ একটি তরল পুশ করা হয়। ১৩টি যৌগের সমন্বয়ে এই দ্রবণটি প্রাণীর শরীরে রক্তের একটি প্রতিলিপি সৃষ্টি করে। ফলে আবারও লিভার, হৃদপিণ্ড এবং কিডনির কার্যকারীরা সাময়িকভাবে ফিরে পায় শুকরটি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ সময় শুকরটির মস্তিস্কেও কিছু প্রতিক্রিয়া লক্ষ করেন গবেষকরা। তবে তা নির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃত্যুর পরও শুকরটি আবারও অনুভূতি ফিরে পেয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি।

এই ধরনের গবেষণা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় মৃত শুকরের মস্তিষ্কের কোষের আংশিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। সে সময় ‘ব্রেনএক্স’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় এই গবেষণা। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই গবেষণা ব্যবহার করে মানুষের অঙ্গ পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে বড় বদল আসতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানে। তবে এখনই এই পদ্ধতি মানব শরীরে প্রয়োগ করার পর্যায়ে পৌঁছাননি তারা।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply