মিতু হত্যার দু’বছর: বাবুলকেই মূল পরিকল্পনাকারী বলছে পরিবার

|

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হচ্ছে সোমবার। এখনও পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি হত্যা রহস্য, মেলেনি অনেক প্রশ্নের জবাব। মিতুর পরিবারের দাবি, বাবুল আকতারই মূল পরিকল্পনাকারী। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ, যেকোনো সময় দেয়া হবে অভিযোগপত্র।

মিতু হত্যার দৃশ্য ধরা পড়েছিলো সিসি ক্যমেরায়। যা দেখে চিহ্নিত করা হয় কিলিং মিশনে থাকা সবাইকে। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৭ জন, বন্দুকযুদ্ধে মারা যান ২ জন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ২ জন।

তবে, এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেয়া কামরুল শিকদার মুসা এবং তার সহযোগী কালু। গেল দু’বছরে তদন্ত আটকে আছে এই মুসাকে ঘিরেই।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ উল হাসান বলেন, কিলিং মিশনের পেছনে কারা ছিল সেটি মুসাকে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

মুসা ছিলেন নিহত মিতুর স্বামী স্বামী বাবুল আকতারের সোর্স। এছাড়া, ২০১৩ সাল থেকে মিতু আর বাবুলের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো। সব মিলিয়ে মিতুর পরিবারের সন্দেহের তীর বাবুল আকতারের দিকেই। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কয়েক দফা দেখা করে কিছু তথ্যপ্রমাণ ও দিয়েছেন তারা।

মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, পারিপার্শ্বিকতা বা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা মনে করি বাবুল আকতারই খুনের নির্দেশদাতা। আমরা চাই দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরা হোক। তারপর মামলার চার্জশিট অনুযায়ী যাদের যা সাজা হওয়ার তাই হোক।

ঘটনার পর বাবুল আকতারকে পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলছে না কেউ। এ অবস্থায় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ছাড়াই মামলার অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এডিসি ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, দ্রুতই আমরা মামলার চার্জশিট দিবো। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মূল আসামিদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ উল হাসান বলেন, মুসাকেও আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে। চার্জশিটে তার নাম থাকছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঞ্চল্যকর এ মামলায়, দায়সারা অভিযোগপত্র দিলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে পুলিশের ভূমিকা।

আইনজীবী ও অপরাধ বিশ্লেষক আকতার কবির চৌধুরী বলেন, বাবুল আকতার যদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থেকে থাকেন তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা দরকার ছিল। আর জড়িত না থাকলে তাকে চাকরিচ্যুত করাটা অন্যায় হয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর জিইসি মোড়ে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু।

যমুনা অনলাইন: এএস/টিএফ









Leave a reply