ভুয়া শিক্ষকের নামে বেতন ভাতা আত্মসাৎ করলো প্রধান শিক্ষক

|

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীতে সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কাগজপত্র জালিয়াতি করে সরকারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই বিদ্যালয়ের এমপিও শিটে একই শিক্ষকের নাম ভুলবশত দুইবার মুদ্রণ হয়। প্রধান শিক্ষক ‘অতিরিক্ত মুদ্রিত ওই নামের বিপরীতে আসা সরকারি বেতন ভাতা ফেরত না দিয়ে জাল কাগজপত্র দাখিল করে ব্যাংক একাউন্ট খুলে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনা ফাঁস হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন একব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত কৃষি শিক্ষক সুলতান মাহমুদ গত ২০১৪ সালে এমপিও ভূক্ত হন। যার ইনডেক্স নম্বর ১০৬৯৮০০। ওই এমপিও সীটে ভুলবশত সুলতান মাহমুদের নাম দুই বার মুদ্রিত হয়। অন্যটির ইনডেক্স নম্বর ১০৭২৬৩৯, বেতন কোড: ১০।

এদিকে অতিরিক্ত নাম আসার সুযোগে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি সরকার জনৈক সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর-১৯৮০৪৯২৫২০২১০৫৫১০ ব্যবহার করে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে এমপিও শিটের অতিরিক্ত মুদ্রিত সুলতান মাহমুদের নামে সোনালী ব্যাংক নাগেশ্বরী শাখায় একটি হিসাব নম্বর খোলেন। যার নম্বর ৫২১২৬০১০২৩৮৯৬। একাউন্ট ব্যবহার করে নিয়মিত মাসিক বেতন ভাতা তুলে আত্মস্বাত করতে থাকেন প্রধান শিক্ষক।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক এ পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ২৪০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। এছাড়াও হিসাব নম্বরের বিপরীতে তিনি ভোগ্যপণ্য ঋণ করেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই এলাকার সফিকুল ইসলাম গত ৬ মে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

সরেজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৭ মে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে এর তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকৃত সুলতান মাহমুদ তার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হলেও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হননি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি সরকার টাকা উত্তোলনের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, বুধবার ওই টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে প্রধান শিক্ষক কাগজপত্র জাল করে সরকারি টাকা আত্মসাত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, প্রধান শিক্ষক অবশ্যই এ কাজটি ভালো করেননি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।









Leave a reply