সাড়ে ৫ কিমি. পতাকা বানালেন জার্মান ভক্ত কৃষক আমজাদ

|

মাগুরা প্রতিনিধি

রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েকদিন। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নানা রঙ্গে নানা আয়োজনে উন্মাদনায় মেতে উঠেছে বাংলাদেশের দর্শকরাও। এ ছোঁয়া পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট ও সকল ধরনের যানবাহনের প্রত্যেকেই নিজের পছন্দের ফুলবল দলের দেশের পতাকা টানিয়েছে।

কিন্তু মাগুরা সদরের ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ হোসেন বিশ্বকাপ ফুটবলে তার প্রিয় দল জার্মানীর জন্য জমি ও ফসল বিক্রির টাকায় বানিয়েছেন সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পতাকা। যা ইতি মধ্যে মাগুরা জেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তার পতাকাটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ভিড় করছেন তার বাড়ীতে।

আমজাদ হোসেন জানান, আমি জার্মান ফুটবলের একজন ভক্ত। টিভিতে ছোট বেলাই বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে ছুটে যেতাম বিভিন্ন স্থানে। জার্মানীর খেলা আমার খুব পছন্দ তাই জার্মানীর ফুটবলাদের অন্ধ সমর্থক আমি। তাদের খেলার ধরণ ও কৌশল অনেক ভাল। আমি একজন কৃষক। কৃষিকাজ করে আমি জীবিকা নির্বাহ করি। জার্মান ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর খেলোয়ারদের নৈপূণ্য আমার খুবই ভালোলাগে। তাই আমি ২০১৪ সালে নিজের নিজস্ব ৩০ শতক জমি বিক্রির টাকায় তখন সাড়ে তিন কিলোমিটার পতাকা তৈরি করেছিলাম। পতাকাটির জন্য তখন মাগুরায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলাম। সেই সময় ঐ পতাকাটি তৈরি করতে আমার খরচ হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা।

২০১৪ সালে যখন ব্রাজিলের মাঠে জার্মানী ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলো তখন আমি নিজেকে সার্থক মনে করলাম। ২০১৪ সালে আমার এ পতাকা তৈরির খবরটি যখন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলো তখন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির হাই কমিশনার ড.ফারদাভান ওয়াসির নজরে পড়ল তখন তিনি আমাকে ঢাকাতে আমন্ত্রণ জানান। আমি ঢাকায় গিয়ে তার তার সাথে দেখা করলাম । তিনি আমাকে সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট প্রদন করেন এবং পরবর্তীতে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্য হওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমি এবার জার্মানীর পতাকাটি আরো ২ কিলোমিটার বৃদ্ধি করেছি। এখন পতাকাটির দৈর্ঘ্য হয়েছে সাড়ে পাচঁ কিলোমিটার। এবারও তিনি পতাকা তৈরি করেছেন নিজের ফসল বিক্রি করে বলে জানান। বাড়তি এ ২ কিলোমিটার পতাকা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফুটবলে জার্মানীর জেতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন ।

মাগুরার বিশিষ্ট ফুটবল ক্রীড়া সংগঠক বারিক আনজাম বারকি বলেন, ফুটবলের প্রতি আমজাদ ভাইয়ে যে এতো ভালোবাসা তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না । নিজের জমি ও ফসল বিক্রি করে তিনি যে পতাকা তৈরি করেছেন তা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।









Leave a reply