বানিয়ারচর ট্রাজেডি: ২২ তদন্ত কর্মকর্তা বদল, ১৭ বছরেও বিচার হয়নি

|

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না,গোপালগঞ্জ

আজ ৩রা জুন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিযারচর গীর্জা ট্রাজেডি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে ভয়াবহ বোমা হামলায় খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ১০ জন নিহত ও আরো অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছিল। এঘটনার বিচার কাজ দীর্ঘ ১৭ বছরেও সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে দিন পার করছে নিহতদের স্বজনরআ ও এলাকাবাসী। দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা।

বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার ও সঞ্জিব বাড়ৈর বোন মেরী বাড়ৈ ক্ষোভের সাথে জানান, বিগত ১৭ টি বছর পার করে দিলাম শুধু স্বজনদের হত্যার বিচারের আশায়। তারা জানান, বোমা হামলায় নিহত অনেকের বাবা-মা এখন ভাল করে কথা বলতেও পারেন না। তারপরও তারা সবাই আশায় বুক বেঁধে আছেন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কবে হবে এই আশায়।

২০০১ সালের এই দিনে বানিয়ারচর গীর্জায় সাপ্তাহিক প্রাথর্না চলাকালে বোমা হামলা চালায় জঙ্গী সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ।এ তে নিহত হন ১০ জন আর আহত হন অর্ধ-শতাধিক লোক। সেদিনের কথা মনে করে এখনো শিউরে ওঠেন নিহত পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা।

মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গীর্জার ফাদার ফরেজা রোম রিকো গমেজ জানান, দিবসটি পালন উপলক্ষে বানিয়ারচর গীর্জায় প্রার্থনাসহ নানা কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের স্মরনে এদিন বিশেষ প্রার্থনা, শোক র‌্যালী, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন, সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার আসামি হরকত-উল-জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সীর ফাঁসি হলেও বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হলেও অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি সিআইডির পক্ষ থেকে।

গোপালগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক ও ক্যাম্প ইনচার্জ ফতেহ মোঃ ইফতেখারুল আলম জানান, গত মার্চের ৪ তারিখে আমার নামে মামলাটি ইনডোর্স করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত দুটি মামলায় জামিনে আছে ১২ জন আসামি, জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে ৬ জন এবং হাজতে আছে ৭ জন আসামি। তিনি জানান, আর আপনারাতো জানেন এ মামলার অন্যতম আসামী হরকত-উল-জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের ইতোমধ্যে ফাঁসির রায় কার্যকর হযে গেছে। এই কর্মকর্তা আরো জানান, আমি দায়িত্ব নেবার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকার লোকজনসহ সেদিন যারা গীর্জায় উপস্থিত ছিলেন তাদের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেন, আমরা এখন তদন্তের মাধ্যমে একটা যৌক্তিক অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। তিনি এ সংক্রান্ত মামলা দু’টিকে অত্যান্ত স্পর্শকাতর মামলা উল্লেখ করে বলেন, মামলার বিষয়ে সব সময়েই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নজর রাখছেন। তদন্তের স্বার্থে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করে তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব মামলা গুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এর পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হালিম বলেছেন, সিআইডিকে বার বার এ মামলা গুলোর চার্জশিট দেয়ার কথা বলা হলেও তারা নানা অযুহাত দিয়ে এখনো তা দেয়নি। তিনি বলেন, সিআইডি দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিলে বিচার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply