‘বে-ঈমান হোমিও হল’, নামের রহস্য জানালেন মালিক

|

সাইনবোর্ড দেখে চমকে যেতে পারেন অনেকে। ‘বে-ঈমান হোমিও হল’! এ কেমন নাম! তাহলে কি এখানকার সেবাদাতারা মানুষের সাথে ‘বেঈমানি’ করে থাকেন? আর করলেও কেউ এভাবে ‘বেঈমানি’ করার ঘোষণা দেয়ার সাহস হয় কিভাবে!

মানুষ তো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য খুঁজে থাকেন ‘ঈমানদার’ (বিশ্বস্ত অর্থে) কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে। সেখানে এই ধরনের নাম কেন একটি হোমিও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের?

সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া সাইনবোর্ডেই দেয়া আছে মোবাইল নম্বর। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম। রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের গফুর ম্যানশনে বে-ঈমান হোমিও হলের অবস্থান। রহস্য জানতে ফোন করা হলো ডা. তারেককে।

তার বক্তব্য, বাংলা ভাষায় প্রচলিত ‘বেইমান’ আর তার সাইনবোর্ডে ব্যবহৃত ‘বে-ঈমান’ অর্থের দিক থেকে পুরোই বিপরীত।

বাংলা একাডেমির অভিধান মতে, ‘বেইমান’ শব্দের অর্থ হচ্ছে- অকৃতজ্ঞ, অসৎ, বিশ্বাসঘাতক, নিমকহারাম ইত্যাদি। অন্যদিকে ডা. তারেক বলেন, তার ব্যবহৃত ‘বে-ঈমান’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ঈমানের সহিত’। এখানে ‘বে’ ও ‘ঈমান’ দুটি আলাদা শব্দ। দুটি শব্দই আরবী ও ফার্সি ভাষায় আছে। প্রথমটির অর্থ ‘সহিত, দ্বারা, দিয়া’ ইত্যাদি।

নিজের ফেসবুক একাউন্টেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রেখেছেন তারেক। গত ২১ মে এক পোস্টে তিনি লিখেন, “বে ও ঈমান দুটিই আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ। ‘বে’ শব্দের সহিত যুক্ত হইয়া অর্থ প্রকাশ করে। ‘বে’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সহিত, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হইতে, মধ্যে, উপরে। ‘ঈমান’ শব্দের অর্থ বিশ্বাস, আল্লাহতে বিশ্বাস। ‘বে-ঈমান’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্বাসের সহিত’।

তবে পোস্টের কমেন্টে একাধিক ব্যক্তি তারেকের এই ব্যাখ্যার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

ব্যতিক্রমী এই নাম নিয়ে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে বলেও জানালেন তিনি। শুরুর পর পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠানকে সরকারি ‘ড্রাগ লাইন্স’ দেয়া হয়নি। পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তার কাছে বাংলা, আরবী ও ফার্সি ভাষার অভিধানে শব্দটির কী কী অর্থ আছে তা বিস্তারিত তুলে ধরার পর ওই কর্মকর্তা আশ্বস্ত হয়ে লাইসেন্স ইস্যু করেন।

‘এই নামের প্রতি এত আগ্রহ কেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, ‘বিষয়টা ব্যতিক্রমধর্মী হওয়ায় অনেক ঝামেলার পরও নামটা ছাড়তে চাইনি।’ জানালেন, সেবাগ্রহীতার অনেকের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এটি নিয়ে। ব্যাখ্যা দেয়ার পর সবাই ভালোভাবেই নেন।









Leave a reply