হামাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে প্রত্যাখ্যান

|

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা বলতে গেলে পুরোপুরিই একঘরে হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বর্বরতায় শতাধিক নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যার জন্য হামাসকে দায়ী করে ওয়াশিংটনের এক প্রস্তাব উঠিয়ে তাতে নিজের ভোট ছাড়া আর কোনো ভোট পায়নি!

মার্কিন প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। রাশিয়া ও অন্য দুটি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। শুধু নিজেদের ভোটটি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজেদের বাইরে অন্য কারো ভোট না পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আল জাজিরার জাতিসংঘ বিষয়ক প্রতিনিধি জেমস বেইস বলেছেন, ‘সর্বশেষ কবে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে একঘরে হয়েছিল তা মনে পড়ছে না। মনে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিজেদের বিরুদ্ধেই গেছে। এবং এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই অপমানজনক।’

হামাসকে দায়ী করা মার্কিন প্রস্তাবে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। শুধু তাই নয়, গত ৩০ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকেরা নিহত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধকে আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, গাজা থেকে যে হামলা চালানো হচ্ছে তার জন্য ফিলিস্তিনের নেতাদের দায়ভার নিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ওই অঞ্চলে শান্তির জন্য হামাস একটি বড় বাধা।

এর আগে ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়ে কুয়েতের উঠানো এক প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভেটো দেয় ওয়াশিংটন। শুক্রবার কুয়েতের তোলা এই খসড়া নিন্দা প্রস্তাবে রাশিয়া, চীন, ফ্রান্সসহ ৯টি সদস্য দেশ সমর্থন জানালেও ওয়াশিংটনের আপত্তিতে তা কার্যকর করা যায়নি।

যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ইথিওপিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই কুয়েতের প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

দুই ভোটের এই বৈসাদৃশ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, একতরফাভাবে কেবল ইসরায়েলের ওপর দোষ চাপাতে গিয়ে জাতিসংঘ হামাসের দায় দেখছেই না।

“জাতিসংঘ যে ইসরায়েলের সঙ্গে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, এটা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট,” বিবৃতিতে বলেন হ্যালি।

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে গাজা সীমান্ত বরাবর শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ দমনে তেল আবিবের সহিংস আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এর আগেও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের শক্ত অবস্থানের কথা প্রকাশ করেছিল।

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে হামাসসহ বেশ কয়েকটি দল ও গোষ্ঠী ৩০ মার্চ থেকে ‘মার্চ অব রিটার্নের’ ডাক দিয়েছিল।

ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠিকতার সময় চলতি মাসের মাঝামাঝি বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠেছিল। বিক্ষোভের পাল্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে কেবল ১৪ মে-তেই ৬০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। এরপর থেকে সহিংসতার পরিমাণ কমে এলেও বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ চলছেই।

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত বরাবর এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১১৬ ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।









Leave a reply