‘মেয়েদের নির্যাতন করে অঙ্গ কেটে নিত সেনারা’

|

বারো বছরের কিশোরী রাশেদা এখন আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। প্রাণ নিয়ে রাখাইন থেকে পালাতে পারলেও দুঃসহ স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। মাত্র ক’দিন আগের কথা। বড় বোন ইয়াসমিন ও তাসমিনের সাথে তাকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় দুই বোনকে। ভাগ্যগুণে কোন রকম পালাতে পেরেছিল রাশেদা। কিন্তু বাড়িতে এসে দু’দিন পর আরেক নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। চোখের সামনে মরতে দেখেছে বাবাকে। এতসব দুঃস্হ স্মৃতি নিয়ে রাশেদা বেঁচে থাকাই যেন অভিশাপ হয়ে উঠেছে এই বালিকাটির জন্য।

কাঁপা কণ্ঠে রাশেদা বলছিল সেনাদের হাত থেকে পালিয়ে আসার কথা। “ঝোপঝাড়ের নিচ দিয়ে লুকিয়ে, কখনো বা পানিতে ভেসে ভেসে এসেছি। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন আমাদের। অনেক অত্যাচার করা হয়েছে আমাদের ওপর।”

সুচি সরকারের সেনাবাহিনীর হাতে এমন বর্বরতার শিকার নারীর সংখ্যা আদৌ কত তা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সেনারা যে গণহারে নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তা বুঝা যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া অন্য অনেকের সাথে কথা বলে। যাকেই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন ধর্ষণ-গণধর্ষণের মতো ঘটনা। এমনকি ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যাও করা হয়েছে অসংখ্য তরুণী-কিশোরীকে।

একজন বললেন, ‘ওরা আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে একের পর এক হত্যা করেছে।” অন্য একজন জানালেন সুন্দরী তরুণীদের ওপর চালানো বর্বতার কথা। “যুবর্তী ফর্সা মেয়েদের ধরে ধরে নির্যাতন করছে। কারো শরীরের অঙ্গ পর্যন্ত কেটে নেয় সেনারা।”

এসব ঘটনার শিকার নারীরা আদৌ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হয়ে ক্যাম্পে চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করা ডা. নাসরিন বলেন, তারা এমনতিই সাধারণ সহিংসতার ট্রমা নিয়ে এখানে এসেছে। তার ওপর নারীদের মধ্যে যারা ধর্ষণের শিকার হয়ে এসেছেন তারা ভয়াবহ মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সামাজিক কারণে অনেকে এমন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করতে চান না।

/কিউএস


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply