জায়গা সঙ্কট, তাই ময়লার ট্রাকের ঠিকানা ডিসির বাড়ির গেট!

|

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:

সিটি কর্পোরেশনের ময়লা আর্বজনা ফেলেতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে না পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের বাস ভবন (বাংলোর) সামনে চার গাড়ি ময়লাভর্তি ট্রাক রেখে দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের সুইপাররা। বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের খানপুরের বাসভবনের প্রধান ফটকের দুই পাশে দুুটি করে চারটি গাড়ি ময়লা ভর্তি ট্রাক (ত্রিপল দিয়ে ঢাকা) ফেলে রেখে চালকরা চলে যায়।

গত চারদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ময়লা আর্বজনা ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়লা ফেলতে বাধা দেয়ার নগরীর বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্পটে ময়লা আর্বজনার স্তুপ জমে গেছে। বৃষ্টির কারনে সেই বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের মধ্যে।

সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলছেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও না পাওয়ায় সিটি কর্পোরশনের সুইপাররা বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসকের বাংলার সামানে রেখে দিয়েছে।

পরিচচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আলমগীর হিরন জানান, শহর অংশে প্রতিদিন বাজারের ময়লা আর্বচনা ও গৃহস্থালী বর্জ্যসহ প্রায় ৪শ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এটা পরিস্কারের জন্য যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট আছে তা দিয়ে প্রতিদিন ৩৫০ টন বর্জ্য অপসারণ করা যায়।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বর্জ্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি ও ভুইঘর এলাকায় ফেলা হতো। কিন্তু গত চারদিন ধরে ওই রাস্তায় বর্জ্য ফেলতে দিচ্ছে না জেলা প্রশাসন। লিংক রোডে ময়লা ফেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক এনজিও প্রতিনিধিকে জরিমানা করে। যার কারণে বাড়িঘরের ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ ও ফেলা বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহ করে ফতুল্লার কাশিপুর সরকারি একটি খাসের জায়গা ফেলতে গেলে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের লোকজন সেখানে ময়লা ফেলতে বাধা দেয়। হিরন জানান, কাশিপুরের যে জায়গাটিতে ময়লা ফেলার জন্য নেয়া হয়েছিলো তার আশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই।

এ ব্যাপারে মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী টেলিফোনে জানান, কর্পোরেশনের নিজস্ব একটি মজাপুকুর আছে নগরীর ইসদাইর এলাকায়। সেখানে ময়লা ফেলতে গেলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। কাশিপুরে সরকারি খাস জমিতে ফেলে গেলে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হয়। ময়লা ফেলার জন্য জেলা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা চেয়ে পাওয়া যাচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার জানান, লিংকরোডে ময়লা ফেলার কারনে যাতায়তকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। এ কারণে নিষেধ করা হয়েছিলো। কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ময়লা ফেলার ডাম্পিং জোনের জায়গা চেয়ে সিটি কর্পোরেশন আবেদন করা হয়েছে। সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি শুক্রবার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।









Leave a reply