পানি নিষ্কাশনের পথ দখলে : নষ্ট হচ্ছে ৩শ’ বিঘা জমির কাঁচা-পাকা ধান

|

জিল্লুুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সদর উপজেলার মেঘডুমুর বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ (নালা) দখলের কারণে বছরের পর বছর বিস্তীর্ণ এলাকার ৩০০ বিঘা জমির ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। পলাশবাড়ী উপজেলার শেষ সীমানার কুমেদপুর নালাটি স্থানীয় বাসিন্দারা দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করায় এবারও একশ একর জমির কাঁচা-পাকা ধান নষ্টের আশঙ্কা কৃষকদের। এমন অবস্থায় এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১০ বছরেও ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরজমিনে দেখা গেছে, পাল্টে গেছে গাইবান্ধার সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর বিলের ফসলের প্রাচুর্য। বছর জুড়েই বিলে জমে থাকে হাঁটু পানি। এক সময় বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশের কুমেদপুর এলাকার নালা ব্যবহার হতো। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের সেই পথ (নালা) এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের দখলে। কারো অনুমতির তোয়াক্কা না করেই পানি নিষ্কাশন নালায় বাঁধ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই।

এলাকার কৃষক আয়নাল হক ও হযরত আলী বলেন, ‘৮-১০ বছর আগেও ৩০০ বিঘা বিস্তৃত এ বিল থেকে বছরে ধান হতো সাড়ে চার হাজার মন। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতো অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার। কিন্তু নালাটি দখলে থাকায় কাঁচা-পাকা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা’।

সাইদুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, ‘বিলে এখনো কোমর পানি রয়েছে। এ কারণে বিলের জমিতে পাকা ধান কাটলেও কাঁচা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে। বিলে যেভাবে পানি আটকে আছে তাতে কাঁচা ধান পাকার আগেই নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে’।

এলাকার কৃষকরা বলছেন, শতশত বিঘা জমির ধান কোথাও পাকছে আবারও কোথাও কাঁচাও রয়েছে। শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে আজ কৃষকরা সমস্যাসহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ ঠিক থাকলে তাদের আর কোন সমস্যা থাকবে না।

কৃষকদের দাবি, একদিকে ফসলের বাম্পার ফলন, সঙ্গে শতশত কৃষকের জীবিকা। অন্যদিকে প্রকৃতির আশির্বাদ মেঘডোবা বিলটিকে বাঁচাতে বিকল্প নিষ্কাশন চ্যানেল খোলা। পানি নিষ্কাশনের পথ থাকলে এলাকার কৃষকদের বিলের জমির ফসলের কোন ক্ষতি হবেনা। সেই সাথে তারা বিলের পানিতে মাছ চাষও করতে পারবেন।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বিলের পানিতে ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে আগেও বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কিছুই মেলেনি। কিছুদিন আগেও তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় তুলে ধরে প্রতিকার চেয়েছেন। সেই সাথে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছেও বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা করেছেন’।

বিলের পানি নিষ্কাশনে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খাল খনন বা চ্যানেল তৈরির মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রকল্প হাতে নেয়া হবে’।









Leave a reply