পরকীয়া দেখে ফেলায় কিশোর প্রেমিককে দিয়ে সন্তান হত্যা, নিখোঁজ নাটক

|

পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় কিশোর প্রেমিককে দিয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করিয়েছে এক মা। এর পর এ লাশ লুকিয়ে রেখে সাজানো হয় নিখোঁজ নাটক। শেষ পযর্ন্ত ফাঁস হয়ে যায় সব, বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। এহেন ঘটনার পরও শিশুটির মায়ের নির্লিপ্ততা দেখে প্রতিবেশীদের পাশাপাশি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মনোবিদরাও।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী কিশোর প্রেমিকের সাথে পরকীয়া করছিলেন মা। সে সময় বাড়ির বাইরে খেলছিল শিশুটি। বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে মায়ের সন্ধানে রুমের পাশের জানালা দিয়ে উঁকি মারে শিশুটি। এ সময় মা ও তার প্রেমিককে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে ফেলে সে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোর প্রেমিককে দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করান মা। লাশ বস্তায় ভরে বালির স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে, স্বামী বাড়ি ফিরলে সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি-জিডি করেছেন ওই মা।

পুলিশ তদন্তে নামলে সব কিছু ফাঁস হয়ে যায়। গত সোমবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির উঠোন থেকে নিষ্ঠুরতার শিকার শিশু সাধন মণ্ডলের (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়। এর পর শিশুটির মা ও তার কিশোর প্রেমিককে আটক করলে তারা সব কিছু স্বীকার করেন।

মঙ্গলবার ওই মাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর কিশোরকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশে সেফহোমে পাঠানো হয়েছে।

জয়নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সাধনের মা সাগরীর সঙ্গে প্রতিবেশী কিশোরের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সাধন বিষয়টি দেখে ফেললে তার মায়ের নির্দেশে কিশোরটি তাকে খুন করে।

সাধনের লাশ উদ্ধারের পর দু’জনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, গত বৃহস্পতিবার সাগরীর স্বামী গোষ্ঠ মণ্ডল কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশী কিশোর ছেলেটি তাদের বাড়িতে আসে। তার পর ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় জয়। শিশু সাধন দুপুরের খাবার খেয়ে বাইরে খেলা করছিল। দরজা বন্ধ করতে দেখে জানালা দিয়ে সে তার মাকে ডাকতে যায়। আর তখনই মা ও প্রতিবেশী কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে সে।

তখন মায়ের নির্দেশে সাগরকে ধরে ফেলে কিশোরটি। তার পর তাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করে সাধনের লাশ বস্তায় ভরে বালির স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয় বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে শিশুটির বাবা গোষ্ঠ মণ্ডল ফিরে এলে স্বামীকে নিয়ে থানায় ছেলে নিখোঁজের জিডি করে সাগরী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরের বাবা-মা কলকাতায় থাকে। গোষ্ঠ মণ্ডলের পাশের বাড়িতে সে ও তার ভাই থাকত। সেখান থেকে গোষ্ঠ মণ্ডলের স্ত্রী সাগরীর সাথে পরিচয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গোষ্ঠ মণ্ডল বাড়ির বাইরে গেলে সাগরীর বাসায় আসতো, তাদের গোপন পরকীয়া প্রেমের সাক্ষী হওয়ায় জীবন দিতে হলো শিশুটিকে।

যমুনা অনলাইন: এটি









Leave a reply