এক সময়ের বলিউড কাঁপানো অভিনেত্রীর করুণ পরিণতি

|

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি গীতা কাপুর। অভিনয় করেছিলেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। এর মধ্যে ‘পাকিজা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পেয়েছিলেন বিপুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু নিয়তির কী খেল! বৃদ্ধ বয়সে চরম নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে হলো তাকে।

তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে নিয়মিত মারধর করতো নিজের পুত্র! চারদিনে খেতে দিত একবেলা, যেন অতিষ্ঠ হয়ে চলে যায় মা। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় পাষণ্ড ছেলে। এক বছর ধরে অন্যের সহায়তায় চিকিৎসা চলে গীতা কাপুরের। এ সময় একবারের জন্য পুত্রের মুখটি দেখার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেই পুত্র মাকে তো দেখতে আসেইনি, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও আসেনি।

গীতা কাপুরের মেয়েও ছিল। মাকে অবজ্ঞা করে গেছেন মেয়েটিও। তাও মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর এসে দয়া করে মায়ের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছেন।

নিঃসঙ্গতার মাঝেই শনিবার মুম্বাইয়ে পরলোক গমন করেন গীতা কাপুর৷ অথচ, একসময় বলিউড দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, যশ-খ্যাতি-জনপ্রিয়তাও জুটেছিল। ‘পাকিজা’র মতো সিনেমায় রাজকুমারের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷

জানা গেছে, অভিনেত্রী গীতার দুরাবস্থার জন্য দায়ী ছিল ছেলে রাজাই৷ তিনি নিজে মাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে যান।
শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল প্রবীণ অভিনেত্রীর৷ এ কারণে চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা অগ্রিম টাকা জমা রাখতে বলেছিলেন। আর সেই টাকা এটিএম বুথ থেকে তুলতে যাওয়ার নাম করে হাসপাতাল থেকে পালান ছেলে রাজা৷ তার পর থেকেই তার খোঁজ ছিল না।

তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই গীতা কাপুরের চিকিৎসা শুরু করেন হাসপাতালের ডাক্তাররা৷ বিষয়টি জানাজানি হতে বৃদ্ধ অভিনেত্রীর সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন সিবিএফসি সদস্য অশোক পণ্ডিত ও প্রযোজক রমেশ তুরানি৷ তারাই হাসপাতালের প্রায় দেড় লাখ রুপির বিল পরিশোধ করেন।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গীতা জানিয়েছিলেন, ছেলে রাজা অত্যাচার চালাত৷ বারবার তাকে বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার জন্য জোর করা হতো৷ এর জন্য মারধরও করা হতো৷ চার দিনে একবার খেতে দেয়া হতো৷ দিনের পর দিন ঘরে বন্দি করে রাখা হতো৷

এত অত্যাচারের ধকল যখন বৃদ্ধ অভিনেত্রীর দেহ সইতে পারেনি, তখন বাধ্য হয়েই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে ছেলে৷
তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে অশোক পণ্ডিত বলেন, রোববার রাতে মেয়ে আরাধ্যা তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন৷ মায়ের কাজে তিনি কারও উপস্থিতি চাননি৷ তাই তেমন কেউই হাজির ছিলেন না৷ এদিকে, এখনও কোনো খোঁজ নেই সেই পাষণ্ড ছেলের।

যমুনা অনলাইন: এটি









Leave a reply