টিকিট না দিয়ে খোশগল্পে মত্ত কাউন্টারকর্মী, প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিক

|

টিকিট না দিয়ে অন্য কাউন্টারে গিয়ে খোশগল্প আর ফোনে কথা বলতে মত্ত কাউন্টারকর্মী। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা টিকিটপ্রত্যাশীরা অসহায়, বিরক্তি প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। প্রতিবাদ করতে গিয়ে এবং মোবাইলে ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে উল্টো কাউন্টারকর্মীদের মারধরের শিকার হলেন একই লাইনে থাকা একজন সাংবাদিক। শুধু তাই নয়, ছিনিয়ে নেয়া হয় তার আইডি কার্ডও। হুমকি দেয়া হয় মামলারও।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ বার্তাকক্ষ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া। জানা যায়, বাবার অসুস্থতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে কমলাপুরে যান তিনি। টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দেখেন দীর্ঘক্ষণ ধরে কেউ টিকিট পাচ্ছেন না। এগিয়ে গিয়ে দেখেন কাউন্টারে কেউ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্টারকর্মী জেনি অন্য কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছেন। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করার পরও জেনির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। 

সেই নারী কাউন্টারকর্মীর কাছে রাসেল টিকিট না দিয়ে খোশগল্প করার কারণ জানতে চাইলে তিনি উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে রাসেল নিজের মোবাইল ফোনে বিষয়টি রেকর্ড করার চেষ্টা করলে চিৎকার-চেঁচামেচি করে সহকর্মীদের ডাকতে থাকেন সেই নারী। তখন রাসেল নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলে তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন জেনি। আনসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবি’র সদস্য পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যান কাউন্টারের ভেতরে। লাইনের পেছনে অ্যাকাউন্টস রুমে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। অপর এক কাউন্টারকর্মী রাসেলের চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। তার আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেন। ফোনটিও ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করেন।

এ সময় রাসেল কমলাপুরে ঈদযাত্রার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাকিল হাসানকে ফোন দিয়ে তাকে আটকে রাখার ঘটনাটি কোনোমতে জানান। কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ারকে নিয়ে শাকিল ঘটনাস্থলে গিয়ে রাসেলকে উদ্ধার করেন।

এ সময় স্টেশন ম্যানেজারের সামনে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো রাসেলকে দোষারোপ করতে থাকেন কাউন্টারকর্মীরা। দুই পক্ষের কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার। অভিযুক্ত কাউন্টারকর্মীদের প্রত্যাহার ও বদলির সুপারিশ করা হবে বলে জানান। এ সময় কাউন্টার থেকে পালিয়ে যান রাসেলকে মারধর করা সেই কাউন্টারকর্মী। তবে ঘটনার সূত্রপাত ঘটান যে জেনি তিনি তখনও উদ্ধত আচরণ করছিলেন। বলতে থাকেন, সাংবাদিক তো বটেই কেউ তার কিছু করতে পারবেন না। সব জায়গায় তার লোক আছে। লাঞ্ছিত হওয়া সাংবাদিককে উল্টো দেখে নেয়ারও হুমকি দেন তিনি। 





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply